প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বালুখেকোদের থাবায় হুমকিতে আবাদি জমি

ডেস্ক রিপোর্ট : মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ঘাসের মাঠ এলাকায় বালুখেকোদের বিষাক্ত থাবায় নষ্ট হচ্ছে শত শত আবাদি জমি। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই মাসের পর মাস জমি থেকে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পাশের জমিগুলোও ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই বালু তোলায় অল্প সময়ে বিত্তবানে পরিণত হচ্ছে বালুখেকোরা।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ বলা হয়েছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে সরকারি অনুমোদন ছাড়া বালু বা মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে জেল, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত বুধবার সকালে সরেজমিনে পিরোজপুর ঘাসের মাঠ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, ওসমান আলী নামের এক ব্যক্তি পাকা সড়কের পাশ দিয়ে প্রায় ১০ বিঘা জমি থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু তুলছে। সেই বালু এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে ট্রলিতে ভরা হচ্ছে। পরে তা বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ট্রলি বালু বহনের কাজ করছে।

ঘণ্টাখানেক সেখানে থেকে দেখা যায়, ১০ ট্রলি বালু বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে দিনে প্রায় শতাধিক ট্রলি বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুর গ্রামের ওসমান ফকির, ইমাদুল, বাদশা, জিয়া, এনামুল হক, সোমিল মণ্ডল প্রমুখ পুরো এলাকায় শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নষ্ট করে বেশ কয়েকটি খাদ তৈরি করেছেন।

জমির মালিক সাবদার আলী বলেন, ‘গভীর করে বালু তোলায় আমার দুই বিঘা আবাদি জমির পাড় ভেঙে গেছে। এ নিয়ে ওসমান ফকিরের সঙ্গে কয়েক দফা ঝগড়া-বিবাদও হয়েছে। এভাবে মাটি কেটে বালু তোলায় এলাকা থেকে চাষের জমি হারিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরো অভিযোগ করে জানান, ওসমান ফকির তাঁকে জমি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। না দিলে এভাবে পুরো জমি নষ্ট করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।

সাবদার আলীর মতো একই অভিযোগ করেন পাশের জমির মালিক কালাম হোসেন, হারুন ও মিয়ারুল ইসলাম।

এক্সকাভেটর মেশিনের ব্যবস্থাপক রাসেল হোসেন বলেন, গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ গাড়ি বালু তোলা হয়। প্রতি গাড়ি বালুর জন্য তারা ১২০ টাকা পান।

গাড়িচালক দুখু মিয়া জানান, দামুড়হুদা উপজেলার কানাইডাঙ্গা বোস ভাটায় বালু নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন দুটি গাড়িতে করে ১০ থেকে ১২টি গাড়ি বালু সেখানে নেওয়া হয়। বালুর মালিককে গাড়িপ্রতি ৬৫০ টাকা দিতে হয়।

অপর ট্রলিচালক রিমন হোসেন জানান, একটি বসতবাড়িতে ফিলিংয়ের কাজের জন্য এখান থেকে বালু নেওয়া হচ্ছে।

বালু ব্যবসায়ী ওসমান ফকির বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেন। চেয়ারম্যান সাহেবও তাঁর ১২ বিঘা জমি থেকে বালু তুলছেন।’

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস বলেন, ‘শুনেছি, স্থানীয় লোকজন বালু উত্তোলন করে। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আইন লঙ্ঘন হলে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল হক জানান, ওই এলাকায় কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এনামুল হক নামের একজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলাও হয়েছে। এর পরও এসব বালুখেকো রাতারাতি বড়লোক হওয়ার জন্য নির্দ্বিধায় প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আতাউল গনি বলেন, আবাদি জমি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ