প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তরুণদের দখলে থাকবে ভোটের মাঠ

ডেস্ক রিপোর্ট : ভোটার, প্রার্থী ও প্রচারণা কর্মী— সব দিক থেকেই এবার নির্বাচনের মাঠ দখল করে রেখেছে তারুণ্য। ভোটারের হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটারই এবার বড় ফ্যাক্টর। তাদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তরুণ প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহী রাজনৈতিক শক্তিগুলো। এ কারণে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহেও পিছিয়ে নেই তারুণ্য। তাদের কর্মী-সমর্থক সবই তরুণ। ইতিমধ্যেই তারা মাঠ গরম করে রেখেছেন নিজ নিজ মতের প্রার্থীর পক্ষে। অন্য যে বড়সংখ্যক তরুণের সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই, তাদেরও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আগ্রহে যেন জোয়ার এনেছেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। তরুণরা এখন নির্বাচন নিয়ে চায়ের দোকানের পাশাপাশি অনলাইনে আলোচনায় সরব। ভোট দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চান সবাই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নবম সংসদ নির্বাচনের পর যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের আমরা তরুণ ভোটার হিসেবেই বিবেচনা করতে পারি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে ১০ বছরে দেশে ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৮ জন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। সে হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় যোগ হন ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৪ জন নতুন ভোটার। এখন দেশে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮১। শুধু এবার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ জন নতুন ভোটার। নির্বাচন কমিশন জানায়, নতুন ভোটারদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ২৬ বছর বয়সের ভোটার রয়েছেন ৪৭ লাখ, ২৩ বছরের ৭০ লাখ, ২১-২২ বছরের ৩৭ লাখ, ১৯-২০ বছরের ২৭ লাখ ও ১৮ বছরের ৪৬ লাখ। আর ১ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন ভোটার একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথম ভোট দেবেন।

জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী তরুণ ভোটারের বড় একটি অংশই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি আকৃষ্ট। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির উদ্যোগ তাদের মোহিত করেছে। আওয়ামী লীগও তরুণদের এ আগ্রহকে মূল্য দেয় গুরুত্বের সঙ্গে। নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণদেরই টার্গেট করেছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, এখনকার যেসব মন্ত্রী-এমপি মনোনয়ন পাবেন না সেসব স্থানে আসবে তরুণ প্রার্থীরা। এর বাইরে প্রচারণার সব ক্ষেত্রেই তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা আছে আওয়ামী লীগে। দলীয় সূত্রের খবর, দেশের তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরাসরি প্রচারণার কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই দলটির গবেষণা উইং— সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) সক্রিয় হয়েছে। টেলিভিশন মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। কারণ, দেশের অধিকাংশ তরুণই এই মাধ্যমে বেশি আকৃষ্ট। এই মাধ্যমে তারা বেশি সময় ব্যয় করেন। এ কারণে এই মাধ্যমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপিসূত্রের খবর, দল হিসেবে বিএনপি এখনো প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না করলেও তরুণদের বিষয়ে তাদেরও রয়েছে বড় পরিকল্পনা। এমনিতেই অনলাইনে বিএনপি-জামায়াতের একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিষয়ে তরুণদের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া অধিকার সচেতনতাকে সেই পুরনো নেটওয়ার্কেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে দলটি। কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নানা প্রসঙ্গ সামনে এনে তরুণদের নিজেদের পক্ষে আনবে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী জোট। পাশাপাশি এবারই প্রথম ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণ মুখকে একসঙ্গে মনোনয়ন দিয়ে মাঠে নামাতে চাইছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ভোট দিতে আগ্রহ তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের যোগ্যতা। অনেক ভোটার, বিশেষ করে তরুণরা প্রার্থীদের মধ্যে আদর্শিক ব্যক্তি খুঁজে না পেয়ে নির্বাচনে ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হন। তারা মনে করেন, প্রার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া হয়। তরুণ ভোটাররা প্রার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম আদর্শ খোঁজেন। কাজেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বাছাইয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তরুণ ভোটারের প্রভাব পড়বে নির্বাচনে। ভূমিকা রাখবে যারা ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি তারা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোয় সক্রিয় থাকা তরুণরা। ২০০৮ সালে দিন বদলের সনদ দিয়ে তরুণদের আকৃষ্ট করেছিল আওয়ামী লীগ। এবারে দেখা যাক কোন দল কতটা তরুণদের টানতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘তরুণরা সাধারণত শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। এ ছাড়া বিদেশমুখী তরুণদের দেশে অবস্থানের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ ও সেজন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর পদক্ষেপ রাখতে পারে বড় ভূমিকা।’ সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘আগামীতে তরুণদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। তা না হলে ২০২৫ সালে বড় ধরনের জেনারেশন গ্যাপ দেখা দিতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব নতুন বার্তা ও নতুন আলো নিয়ে আসে। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রত্যেক নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশ তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা হয়। তাই আমাদের এখানেও তরুণ ভোটাররা যেন এক তৃতীয়াংশ নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ পায়, এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত