প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপিকে ৫০ আসনের তালিকা দিয়েছে জামায়াত

বাংলা ট্রিবিউন : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে মনোনয়নের প্রত্যাশায় ৫০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছে জামায়াত। শনিবার (১৭ নভেম্বর) জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের কাছে তালিকা পৌঁছে দেয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সারাদেশে ৬০টি আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এই ৬০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫০ জনের নামের তালিকা দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রার্থী তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন প্রার্থীরা। এই তালিকা ধরেই একটি বাছাই তালিকা বিএনপির কাছে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমি নিশ্চিত না, তালিকা দেওয়া হয়েছে কিনা।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সূত্র জানায়, ৬০টি আসন থেকে মনোনয়নপত্র তুলেছেন তাদের প্রার্থীরা। এই তালিকা থেকে ৫০টি আসনে নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নাম প্রস্তাব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটের হিসাব, জামায়াতের বিগত দিনে প্রাপ্ত ভোট, সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপির অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য জানান, বিএনপির সিদ্ধান্ত নিতে যেন সুবিধা ও সহজ হয়, সেজন্যই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দলের প্রভাবশালী দুই নেতার ভাষ্য, আমাদের প্রাথমিক প্রস্তাব ৫০টি। এরপর যাচাই-বাছাই করে জোটগত মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে। কোন-কোন আসনে বিএনপি জোটগত মনোনয়ন দিতে চায়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত তালিকায় বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার এই তালিকা দিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একনেতা। এরপর তার পরামর্শেই দলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের কাছে তালিকা হস্তান্তর করেন।

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জামায়াতের ওই নেতাকে তিনি জানান, জোটগতভাবে মনোনয়নের বিষয়টি সমন্বয় করছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান।

তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একনেতার সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির মূল নির্বাচনি জোট থাকায় তাদের এ বছর অনেক ছাড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপির তরফে অনানুষ্ঠানিকভাবে ১৮-২০টি আসন পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেও দরকষাকষি করবে জামায়াত। এক্ষেত্রে দলটির পছন্দ অন্তত ৩০-৩৫টি আসন।

জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র মার্কায় নির্বাচন করতে জামায়াতের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন জামায়াত করবে কিনা, এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে।

যদিও প্রকাশ্যেই জামায়াতের নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়েই একাদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাদের প্রার্থীরা।

কেন্দ্রীয় একনেতা আরও বলেন, ‌‘খুব শিগগিরই আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে ফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত হতে পারে ধানের শীষ প্রতীক নেওয়া হবে কিনা। এক্ষেত্রে আরপিও ধারাগুলো আবারও পর্যালোচনা করবে জামায়াত।’

এর আগে, ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের ব্যানারে ৩১টি, এরমধ্যে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগত সমর্থন পেলেও চারটি থেকে দলীয়ভাবে নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রার্থীরা। দলটির তৃণমূলের অভিমতের ভিত্তিতে এবার তাদের দাবি ৬২টি। তবে চূড়ান্তভাবে ত্রিশটি আসনে ন্যূনতম ছাড় চায় জামায়াত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত