প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলার কেন এ অবনতি?

যুগান্তর  : নির্বাচনের অব্যবহিত আগে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চার ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক বটে। শুক্রবার নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ঘটেছে এ ঘটনা। জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রায়পুরা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের মধ্যকার ঘটনা এটি।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বালুমাঠে, পরে তা পাশের ইউনিয়ন নীলক্ষাসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার ভোরে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে প্রথমে ১৬ বছরের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। এরপর দুপুরে নীলক্ষার কান্দাপাড়ায় আবারও সংঘর্ষ বাধে এবং এই সংঘর্ষে মারা যান তিনজন।

দুটি ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর আলোচ্য ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ঘটেছে স্রেফ আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এবং এর উদ্দেশ্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তার। তবে দিনে-দুপুরে দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে চার ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে গুরুতর। এ প্রসঙ্গে প্রথমে যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দেয় তা হল- দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু আছে কি?

দ্বিতীয় প্রশ্ন, মানুষের মধ্যে এই উগ্রতা, এই জীঘাংসার জন্ম হল কীভাবে? তৃতীয় প্রশ্ন, নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের ঘটনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কেমন হবে? প্রথম কথা, শুক্রবার ভোরে বাঁশগাড়িতে বন্দুকযুদ্ধে এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার অনেক পরে নীলক্ষা ইউনিয়নে উত্তেজনা যে ছড়িয়ে পড়ল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাহলে কী করেছে? ঘটনাটি তো প্রথম ঘটনাস্থলেই শেষ হতে পারত। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নিশ্চয়ই থানা-পুলিশ সবই আছে।

আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ যে পরস্পরের প্রতি আক্রমণ করতে পারে, পুলিশের আগে থেকেই তা বোঝা উচিত ছিল। তারা তা বুঝতে তো পারেইনি, উপরন্তু উত্তেজনা ও সংঘর্ষকে প্রাথমিক অবস্থায়ই দমাতে ব্যর্থ হয়েছে, যে কারণে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে। পুলিশের এই ব্যর্থতা মেনে নেয়া যায় না। দ্বিতীয় কথা, দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশবাসীর কোনো কোনো অংশের মধ্যে ক্রোধ, উত্তেজনা, প্রতিহিংসা ইত্যাদির জন্ম হচ্ছে এবং তারা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা আগেও ঘটেছে অনেক। মানুষের এই ক্রোধান্বিত রূপ মাঝে মধ্যেই প্রত্যক্ষ করতে হয় আমাদের। এলাকার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক নির্বিশেষে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থে অনুসারী তৈরি করে থাকেন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করেন। এই চর্চা এখন এক প্রতিষ্ঠিত অরাজকতা।

রাষ্ট্র তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এসব গডফাদারকে প্রতিহত করা। আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট থাকলে কোনো এলাকায় তথাকথিত গডফাদারের জন্ম হবে না।

নির্বাচন সমাগত। নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা কাম্য নয়। নরসিংদীর ঘটনাটি অরাজনৈতিক হলেও এর রাজনৈতিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সচেতন নাগরিকদের সদাসতর্ক থাকতে হবে।

সবশেষ কথা, নরসিংদীর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের তথা যাদের নেতৃত্বে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

উৎসঃ যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ