প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি-জামায়াতের ঠাণ্ডা লড়াই
খুলনার ৩টিতেই আওয়ামী লীগের নতুন মুখ

ডেস্ক রিপোর্ট : খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের নতুন মুখ আসছে। খুলনা-২ আসনে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দীন জুয়েল, খুলনা-৬ আসনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও খুলনা-৪ আসনে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী নতুন মুখ হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে, তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও জোটের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। দলীয় সূত্র জানা গেছে, খুলনার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের ৩৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনে নতুন মুখ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দীন জুয়েল একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী। কেন্দ্রের নির্দেশে বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় তার মনোনয়ন নিশ্চিত।

খুলনা-১ (দাকোপ ও বটিয়াঘাটা) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল, এডভোকেট নিমাই চন্দ্র রায়, শিল্পপতি শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাদিউজ্জামান হাদী; খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী) থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, শেখ মো. ফারুক আহমেদ, মো. আশরাফুল ইসলাম, বিজেএ’র সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী ও কেসিসি’র প্যানেল মেয়র-১ আমিনুল ইসলাম মুন্না। খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক জাতীয় ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, মো. কামরুজ্জামান জামাল, এসএম জাহিদুর রহমান ও প্রয়াত সংসদ সদস্য মোস্তফা রশিদী সুজার ছেলে এসএম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ।

এ আসনের সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনে আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার পর তার এবারের নির্বাচনেও মনোনয়ন নিশ্চিত। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন, ড. মাহাবুব উল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার, অজয় সরকার ও শেখ মো. হাসান আল মামুন। খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা, গাজী মোহাম্মদ আলী, আকতারুজ্জামান বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ, মো. রশীদুজ্জামান, শেখ মনিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মণ্ডল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মাওলা, আলমগীর হোসেন, জিএম কামরুল ইসলাম ও বাহারুল ইসলাম।

এ আসনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনিও এ আসনের নতুন মুখ। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, বর্তমান একাধিক সংসদ সদস্য এবারের মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে পারেন নতুন প্রত্যাশীদের চাপে। খুলনা-২ আসনে একক প্রার্থী হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ‘নৌকা’র মাঝি নিশ্চিত। তাছাড়া অন্য পাঁচটি আসনে এখনই নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না- কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি। অন্যদিকে, সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন খুলনা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান; খুলনা-২ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন ।

খুলনা-৩ আসনে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাঈম মো. ফকরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদ হোসেন অমল। খুলনা-৪ আসনে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ। খুলনা-৫ আসনে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আব্দুল হক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মামুন রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ।

খুলনা-৬ আসনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, কয়রা উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শামসুল আলম পিন্টু, পাইকগাছা উপজেলা আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, বিএনপির ভেতরে-বাইরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই জমে উঠেছে। সর্বোচ্চ লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বও ফুটে উঠেছে মনোনয়ন সংগ্রহের ক্ষেত্রে। । আবার, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী খুলনা-৫ আসনে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ৬ আসনে খুলনা মহানগরী আমীর কারারুদ্ধ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনেই জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ