প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে চাঁদপুরের চার মন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : দলীয় মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট সাবেক ও বর্তমান ৪ মন্ত্রী। এরা হলেন- চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনি ও চাঁদপুর-৫ আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)। দলীয় মনোনয়ন অনিশ্চয়তা থেকে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট সাবেক ও বর্তমান এই ৪ মন্ত্রী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের আগ্রহের আসনে প্রার্থিতা নিয়েই তাদের এই দুশ্চিন্তা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এই আওয়ামী লীগের ৪ হেভিওয়েট প্রার্থীদের টেনশনের কারণ তৃণমূল নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব। নির্বাচনকে ঘিরে এ দ্বন্দ্ব আরো বৃদ্ধিও পেতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ পাওয়া না পাওয়ার ক্ষোভ অনেকের মধ্যেই আছে। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কোন আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেবে দল।

এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা রয়েছে। কেউ কেউ বর্তমান এমপি-মন্ত্রীদের এগিয়ে রাখলেও নতুনরা হেভিওয়েট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন। সেই সঙ্গে নতুনদেরও এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়ই থাকতে হবে সকলকে।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তার দুশ্চিন্তার কারণ সাবেক সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন সাবেক সচিব গোলাম হোসেন। তিনি এলাকায় গণসংযোগ শুরু করলেই শুরু হয়ে নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের আক্রমণ। আহত হন তার অনুসারী নেতাকর্মী ও সাংবাদিক।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনে মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে আছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তার টেনশনের কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ.কুদ্দুছ, তরুণ শিল্পপতি আওয়ামী লীগ নেতা এম ইসফাক আহসান, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম খোকা, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জাকিয়া সুলতানা শেফালি। অপরদিকে এ আসনটি ধরে রাখতে ইতিমধ্যে মায়া চৌধুরীর ছেলে সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপুও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। দীপু চৌধুরী বিগত দিনে পিতার সঙ্গেই এলাকার বিভিন্ন সভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার টেনশনের কারণ একই আসন থেকে মনোনয়ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। এ ছাড়াও এ আসন থেকে আরো মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান, মৎস্যজীবী লীগ নেতা আলহাজ রেদওয়ান খান বোরহান, আওয়ামী লীগের আরেক নেতা জাকির হোসেন মারুফ।
চাঁদপুর-৫ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম)। তার আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) সালাউদ্দিন। আরো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, অধ্যাপক ফজলুর রহমান।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ