প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন করছেন না জামায়াতের আমির

বাংলা ট্রিবিউন : স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলেও, দলটির আমির মকবুল আহমাদ প্রার্থী হচ্ছেন না। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছেন তিনি। তার সংসদীয় এলাকা ফেনী। এছাড়া ঢাকা উত্তর, সিলেট মহানগর ও গাজীপুর মহানগরের আমিররাও নির্বাচন করছেন না বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে এবং বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় আমিরে জামায়াতে নির্বাচন করছেন না।’
২০১৬ সালের অক্টোবরে আমির নির্বাচিত হন মকবুল আহমাদ। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতারের পর, ২০১৬ সালের আগে প্রায় ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন মকবুল আহমাদ। এ সময় তিনি আত্মগোপনে থেকেই দল পরিচালনা করেছেন।
মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপূর ইউনিয়নের ওমরাবাদে। পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ফেনী মডেল হাইস্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসরের পরই জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গ্রামের বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। পারিবারিক জীবনে চার সন্তানের জনক মকবুল আহমাদ। রুকন থেকে পর্যায়ক্রমে দলটির অঞ্চলভিত্তিক পরিচালক, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে ফেনী-২ আসন থেকে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান মকবুল আহমাদ।

আমির নির্বাচিত হওয়ার পরই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৭ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিন দফায় তদন্ত করে সংস্থাটি। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হান্নান খান বলেন, ‘মকবুল যে রাজাকার ছিলেন সে বিষয়টি তথ্য-উপাত্তে স্পষ্ট। আমাদের কাছে এতদিন অভিযোগ ছিল না। একটি অনলাইনে করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা তদন্তে যাই। এখনও প্রাথমিক তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’

জামায়াতের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয়ভাবে অনুরোধ করা হলেও মকবুল আহমাদ নির্বাচনে রাজি হচ্ছেন না। শারীরিক ও বয়সের কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছেন।
দলের একজন নায়েবে আমির বলেন, ‘আমিরে জামায়াত তো নির্বাচনে রাজি হচ্ছেন না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। দলের প্রধান নির্বাচন না করলে কেমন দেখায়?’

জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আমিরে জামায়াতের মতো অনেক সিটি আমিররাও নির্বাচন করছেন না। এরমধ্যে সিলেট মহানগরের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, গাজীপুর সিটি আমির এস এম সানাউল্লাহ, রাজশাহী সিটি আমির রাবির অপসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবুল হাশেম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

তবে খুলনা সিটি আমির আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম সিটি আমির মো. শাহজাহান নির্বাচন করছেন। এছাড়া সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা ১৫; নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আনম শামসুল ইসলাম ও মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত