প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে শঙ্কা

 

মঞ্জুরুল আলম পান্না : প্রতিবারের মতো এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও যে ঘনঘোর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল অতি অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তা কেটে গেলো নানা ঘটনা পরিক্রমায়। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাওয়ার ঘটনা এখন দেশবাসীর সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা। তবে এই স্বস্তির বিশাল ক্ষেত্রটি যেন কোনোভাবেই আবার অন্ধকারাচ্ছন্ন না হয়ে ওঠে সেই আশঙ্কাও একেবারে দূর হয়নি। কারণ নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক হতে চললেও তা অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হবে কি-না সেই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। এরই মধ্যে গত ১৪ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষে নতুন করে আতঙ্ক আর অজানা অনেক আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে জনমনে।

বড় দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে বড় বড় মিছিল নিয়ে এসে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের আনন্দে আর শক্তির মহড়ায় জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে রাজধানীবাসীর। এভাবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশনকে আমরা উদাসীন থাকতে দেখলাম আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রির সময়। দলটির ধানমন্ডি কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ভীড় ঠেলতে যায়নি পুলিশ, যা ঘটেছে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে ভীড় করা নেতা-কর্মীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হলো পুলিশের দুটি গাড়ি, আহত হলেন পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় যথারীতি দেখা গেলো বড় দুই দলের একে অপরের প্রতি দোষারোপের খেলা। তবে ওই দিনের সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনার দায় বিএনপি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কীভাবে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে, আগুন দেয়ার পর সন্ত্রাসীরা কেমন করে শূন্যে ভেসে উন্মাদনার জানান দিচ্ছে তা আমরা দেখেছি। এমন কী পুড়তে থাকা পুলিশের গাড়ির সামনে তাদের কাউকে কাউকে দেখা গেছে সেল্ফি তুলতে। ভুলে গেলে চলবে না যে, এদেশের রাজনীতিতে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার জায়গাটি খুব কম, অভাব রয়েছে সহনশীলতার। বিরোধী দলগুলোর প্রতি কোনো সরকারের আচরণই গণতান্ত্রিক থাকেনি কখনও।

বিএনপিকে তাই মনে রাখতে হবে তাদের হিংসাত্মক কর্মকান্ডকে পুঁজি করে সরকার তার ফায়দা লুটতে পারে কয়েকগুণ। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিএনপি বেশি। তাছাড়া ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোল বোমায় শত শত মানুষ হত্যার তান্ডব মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। তাই ১৪ নভেম্বর বুধবার পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা মানুষের মনে খুব সহজেই দাগ কাটবে। তবে এই সত্যের আড়ালে সরকারী দলও যে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে শায়েস্তা করতে যেমন ইচ্ছে নিপীড়ন চালাবে সেটিও কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই দিনের সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরে পুলিশের ওপর যারা আক্রমণ চালিয়েছে তাদেরকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারী এবং সাংবাদিকদের ওপর ভয়াবহ আক্রমন চালিয়ে রক্তাক্ত করলেও তাদের কাউকেই এতোদিনে চিহ্নিত করেনি পুলিশ। কেন করা হয়নি তা বুঝতে কারোর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

লেখক: সাংবাদিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ