প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হ্যাশ ট্যাগ মি টু একটি সম্পূর্ণ সামাজিক আন্দোলন : রাশেদা রওনক খান

তানজিনা তানিন : বিশ্বজুড়ে ‘মি টু’ আন্দোলন গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ভাবে যৌন নিপীড়িত নারীরা। বাংলাদেশে মি টু আন্দোলন সম্পর্কে নারী অধিকার কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান বলেন, এটি নারীবাদী আন্দোলনের একটি নতুন ধারা। অনেকেই এ আন্দোলনকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, ‘পুরুষতন্ত্রের ধসের জন্য এই আন্দোলন করছে’- এটা যারা ভাবছেন, তারা এই আন্দোলন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাদের এই আন্দোলন সম্পর্কে পড়াশোনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নারীবাদ কী?’ এ বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষেরই একাডেমিক ধারণা নেই। অনেকে ভাবেন, নারীবাদ মানেই পুরুষতন্ত্রের ধ্বংসের জন্য আন্দোলন। এ ধারণা ভুল। নারীবাদ হলো নারীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মি টু আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন বয়সে, বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন ভাবে নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়, এ বিষয় তুলে ধরা ও অপরাধীর মুখোশ খুলে দেওয়া। সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মেয়েরা তা প্রকাশ করতে পারে না। এই আন্দোলনের মাধ্যমে নিপীড়িত নারীরা তাদের যৌন হয়রানির কথা প্রকাশ করছে। এর মানে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন।

মি টু আন্দোলনের ফল সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদা রওনক খান বলেন, সমাজের উঁচুস্তর থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত অনেক মুখোশধারী পুরুষ রয়েছে যারা বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার কথা বলে নারীর ওপর অন্যান্য সুযোগ নেয়। কখনও বা ফাঁদে ফেলে সুযোগ নেয়। পুরুষের নারীদের ভোগবাদি চিন্তার অবসান ঘটাতে এ আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তার ধারণা। মি টু আন্দোলন ভবিষ্যৎ নারীদের সচেতন করবে। আর সমাজের নিকৃষ্ট পুরুষদের হুঁশিয়ারি সংকেত জানাবে। বিভিন্ন স্তরের নিপীড়কদের কুৎসিত স্বরূপ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন পরবর্তী পুরুষ প্রজন্মকে নতুন রাস্তা দেখাবে বলে মনে করেন এই শিক্ষাবিদ ও নারী অধিকার কর্মী।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ