প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোটের সমীকরণেও ঐক্যফ্রন্ট এগিয়ে

কামাল উদ্দীন রাশেদ : এবার দশ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি, ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেষবার অংশ নিয়েছিলো, ২০১৪ সালের তথাকথিত একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি। বিশ্বের সব জায়গায় জোটবদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের জন্য, তেমনি বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগ-১৪ দলীয় জোট,বিএনপি- ২০ দলীয় জোট হিসেবে নির্বাচন করে আসছে। বিএনপি জোটে জামায়াত ইসলাম, এলডিপি, জাতীয় পার্টি-পার্থ, কল্যাণ পার্টি, লেবার পার্টি সহ অন্যান্য দলসমূহ। আওয়ামী জোটে- জাতীয় পাটি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ-ইনু অন্যতম।

২০১৮ সালের নির্বাচনে এসে আওয়ামী লীগের বিগত দশ বছরের অপশাসনের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি জোটকে সম্প্রসারণ করে ড. কামাল, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না,ব্যারিস্টাার মইনুল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মনসুর, কাদের সিদ্দিকীর মতো রাজনীবিদদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করে। ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ার পরে ভোট ও জোটের সমীকরণ অনেকখানি পাল্টে গেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই সরকার ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যপ্রক্রিয়ার ঐক্য বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিডিআর বিদ্রোহ, শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের রিজার্ভ লুট, জঙ্গি নাটক, বাকস্বাধীনতা হরণ, রামপালে বিতর্কিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, যুদ্ধাপরাধের বিতর্কিত বিচার, সাংবাদিক সাগর-রুনী হত্যা, প্রশাসনকে দলীয়করণ, বিভিন্ন ব্যাংক দখল ও লুট, বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা, কয়লাখনির কয়লা গায়েব, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ কেলেংকারী, সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মানহানি, মিডিয়া দলীয়করণ, সাধারণ ছাত্রদের দাবির আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা, বিচার ব্যবস্থায় নগ্ন হস্তক্ষেপ, নিজদলীয় কোন্দলে হত্যাকা-, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী গুম-খুন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহোৎসব, দলীয় ক্যাডারদের টেন্ডারবাজি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন  সর্বোপরি বাকশাল কায়েমের চেষ্টা, উল্লেখিত কারণে সাধারণ জনগণ আজ বিক্ষুব্ধ।

দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা রয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঠুনকো একটি দুর্নীতির মামলায় কারাদ- দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় সাধারণ জনগণের সাপোর্টও তিনি পেতে পারেন।

এবার আসা যাক জোটের ভোট ব্যাংকের সাধারণ হিসেবে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, সেই হিসেবে ইসলামী দলগুলোর সমর্থন বিএনপি জোটের পক্ষে থাকায় ভোটের বাক্সে জোটের পক্ষেই যাবে এবং নীরব ভোটারদের সমর্থনও বর্তমানে বিএনপি জোটের দিকে। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ার পর সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সর্মথনও বিএনপির জয় লাভের অন্যতম কারণ হবে বলে সাধারণ ভোটারদের বদ্ধমূল ধারণা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় জোট, এরশাদের জাতীয় পার্টির দলীয় ভোট ব্যাংক রয়েছে। তারা যেহেতু দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলো তাই সাধারণ জনগণ তাদের অপশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে বিএনপির ২০ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্টকেই ভোট প্রদান করবে বলে অনেকের ধারণা।

লেখক : রাজনীতিবিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ