প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ মাসেই নদীরক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন সদরঘাট নৌবন্দরের কান্না ৩২ ডকইয়ার্ড

তরিকুল ইসলাম সুমন : ঢাকা সদরঘাট নৌ বন্দরের অপরপারে কেরানীগঞ্জের মিরেরবাগ ও কালিগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩২টি ডকইয়ার্ড। এসব ডকইয়ার্জের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই বলে জানাগেছে।

এগুলোর মধ্যে কেরানীগঞ্জের মিরেরবাগে রয়েছে ২৪ টি ডকইয়ার্ড এগুলো হলো- নজরুল ইসলাম ডকইয়ার্ড, আজিম ডকইয়ার্ড, তালুকদার ডকইয়ার্ড, সেমার্স সাগর ডকইয়ার্ড, সেমার্স আলী ডকইয়ার্ড, সেমার্স উজির আলী ডকইয়ার্ড, ঢাকা ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, বোগদাদিয়া এন্ড ময়ুর ডকইয়ার্ড, সেমার্স সিটি ডকইয়ার্ড, জনতা ডকইয়ার্ড, মাদারিপুর ডকইয়ার্ড, প্রিন্স ডকইয়ার্ড, ফারুক (সাবেক সাত্তার) ডকইয়ার্ড, সেমার্স বায়োজিত ডকইয়ার্ড, হোসেন ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, লাট ডকইয়ার্ড-২, মেসার্স প্রিন্স আওলাদ ডকইয়ার্ড, শামছু ডকইয়ার্ড, অগ্রগতি ডকইয়ার্ড, শামসুদ্দিন ডকইয়ার্ড, বিসমিল্লাহ ডকইয়ার্ড, আগরপুর ডকইয়ার্ড এন্ড শিপ বিল্ডার্স, ফারহান ডকইয়ার্ড, কুমিল্লা শিপ বিল্ডার্স, এছাড়াও কোরাণীগঞ্জের কালিগঞ্জে রয়েছে ৮ টি ডকইয়ার্ড। এগুলো হলো- মদিনা ডকইয়ার্ড, বিসমিল্লাহ ডকইয়ার্ড, লাট ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ডকইয়ার্ড, সাত্তার খান ডকইয়ার্ড, এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, ফারুক খান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, জেনারেল ডকইয়ার্ড, লাকী ডকইয়ার্ড এবং পারজোয়ার ডকইয়ার্ড।

সদরঘাট নৌ বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিআইডব্লি উটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩২টি ডকইয়ার্ড দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম নৌ বন্দর ঢাকা সদরঘাটকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। ফলে নৌ চ্যনেলটি সরু হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর প্রায় অর্ধেক জায়গাই বেদখল হয়েছে। নৌযানগুলো যাত্রি নিয়ে ঘাট থেকে বের হওয়ার সময়ে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। একটি নৌ যান (ব্যাগার দিয়ে) বের হলে পুরো চ্যানেলই বন্ধ হয়ে যায়।

জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সদস্য (সার্বক্ষনিক) মো. আলাউদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, গত ২০ আগস্ট নদনদীর নাব্যতা ও দুষণমুক্তকরণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব ডকইয়ার্ডেও বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি গত ১১ অক্টোবর সরোজমিন পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে কেরাণীগঞ্জের ভ‚মি অফিসের মাধ্যমে ডকইয়ার্ডের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র পরীক্ষা করে সন্তুষ্ট হতে পারেনি এই কমিটি। আগামী ২২ নভেম্বর ভূমি অফিসে এ বিষয়ে শুনানীর আয়োজন করা হয়েছে। এসময়ে সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। শুনানিতে সিএস, দিয়ারা, আরএস এবং সিএস জরিপে নদীর অবস্থান দেখা হবে। এর উপরেই ভিত্তি করে এ মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।সম্পাদনা: মাহবুব আলম