প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের মাঠে রাজনৈতিক জোট শুধুই প্রতীকী ব্যাপার নয় : রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ

সৌরভ নূর : বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জোটভিত্তিক রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৮০’র দশকের গোড়ার দিকে। তারপর থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলগুলোর নতুন-নতুন জোট গঠন-ভাঙন ও বারবার দল বদলের ঘটনা ঘটেছে।

দলগুলো শুধু নির্বাচনী জোটের মধ্যেই এখন আর সীমাবদ্ধ থাকছে না। কেননা উভয় রাজনৈতিক জোটেই এমন অনেক দল রয়েছে, যাদের তেমন কোন প্রভাব নেই ভোটের মাঠে। তারপরেও জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি যেনো দিনে দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ! কিন্তু এখন কথা হলো, বাংলাদেশের নির্বাচনে এই জোটবদ্ধ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কেন?

জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে জানান, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিএনপি জোট করেছিল। বড় দলগুলোর মধ্যে ভয় ছিল, যদি তারা সরকার গঠন করতে না পারে। এরকম একটা ভয় থেকে নির্বাচনী জোটের সূচনা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট এবং একপর্যায়ে মহাজোট গঠন করে। আওয়ামী লীগের সে জোটে এমন রাজনৈতিক দলও এসেছে যাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিরোধিতার ভিত্তিতে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

তবে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ভোটের মাঠে রাজনৈতিক জোট শুধুই প্রতীকী ব্যাপার নয়। কখনো-কখনো এর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। যেমন বর্তমান অবস্থায় সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদাহরণ টানেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দু-একটা রাজনৈতিক দল আছে যাদের ভোট ব্যাংক না থাকলেও নেতাদের ব্যক্তি ইমেজ আছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও, সামাজিক কিছু গ্রহণযোগ্যতা আছে। যা রাজনীতির মাঠে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম।

অপরদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা মনে করেন, “মোটা দাগে জোট গঠনের বিষয়টি প্রতীকী এবং মনস্তাত্ত্বিক। ভোটের রাজনীতিতে এটার কোনো প্রভাব নেই। এখন উভয় পক্ষই প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে তাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক দল আছে। পাশাপাশি জোট থাকলে দলের নেতা-কর্মীদের উপরও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকে।”–বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ