প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১০ নম্বরি করলেও নির্বাচন বর্জন নয় : ড. কামাল হোসেন

এস এম নূর মোহাম্মদ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা আর নির্বাচন বয়কট করবো না। ১০ নম্বরি করলেও না। কারণ একবার নির্বাচন বয়কট করে জাতিকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এবার নির্বাচনে প্রত্যেক ঘরে ঘরে যেয়ে লোকজনকে বুঝাতে হবে। নির্বাচন পাহাড়া দিতে হবে। সবাইকে সংঘবদ্ধ এবং সচেতন হতেও আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবীদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করতে পারিনা। আজকে কারা দেশ চালাচ্ছে? এটা শহীদদের অপমান। কারণ এরা জনগণের প্রতিনিধি না।

এই সরকার ১৪ সালে নির্বাচনের সময় বলেছিল, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও নির্বাচন হবে। তাহলে দ্রুত মানে কি ৫ বছর? পাঁচ বছর তারা ভাওতাবাজী করেছে। ভাওতাবাজীর জন্য তাদের গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিন্হা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭জন বিচারপতি একমত হয়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছেন। অথচ সিন্হাকে শাস্তি পেতে হয়েছে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কামাল হোসেন বলেন, সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকাই অসাংবিধানিক। দিনে-রাতে নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আর আমাদের সংবিধান দেখাচ্ছে। ৫ বছর চললো কিভাবে? ১৫৪ জনকে সংসদ সদস্য বলা যাবে না। এরা মনোনীত প্রার্থী। তাদের কে নির্বাচিত করেছে? এরা এমপি বলে পরিচয় দেয়। তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। তারা মানুষ আছে, না অন্য কিছু হয়ে গেছে। দোয়া করি লজ্জাবোধ যেন তাদের মাঝে ফিরে আসে।

ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি খুবই ন্যায়সংগত। এতদিন পর নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে একদলের নেত্রী সরকার প্রধান আর অন্যদলের নেত্রী কারাগারে থাকবেন এটা মেনে নেয়া যায় না। এভাবে বৈষম্য হলে গণতন্ত্র আসবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে দানবকে পরাজিত করবো। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট যুদ্ধে নামতে হবে। খালেদা জিয়া ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা সবার কাছেই খালেদা জিয়ার বার্তা নিয়ে গিয়েছি। বি.চৌধুরীর কাছেও গিয়েছিলাম।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থা, আইনের শাসন বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। সচিব যা নির্দেশ দেন, বিচারককে তাই করতে হয়। আমরা আক্রান্ত হলে বিচার বিভাগের দিকে তাকিয়ে থাকি একটু আশ্রয়ের আশায়। কিন্তু বিচার বিভাগে সেই আশ্রয়টুকুও আজ নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকলো কোথাও স্বাধীনতা থাকবে না। আগামী নির্বাচনে আমরা জয়ী হতে না পারলে বিচার ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র চলে যাবে একটি দলের হাতে।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এই ইসিকে দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। এর আগে এরা স্থানীয় নির্বাচনই করতে পারেনি। ইভিএমে চুরি করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। এটি ব্যবহার করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এসময় তিনি ইসিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এবার সবাইকে লড়াই করে ভোট দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে পরাজিত হবে। ধানের শীষের জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে।

মওদুদ বলেন, স্বাধীনতার চেতনা এখন আর নেই। এই সরকারের সময় বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হারিয়েছি। মানুষের মৌলিক অধিকার নেই। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ এই সরকাররের পতন দেখতে চায়।

তিনি বলেন, চারদিন ঢাকার রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন ফরম জমা নিয়েছে। কোনো বাধা দেয়া হয়নি। অথচ আমরা মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করলে জনগণের জোয়ার দেখে ইসি নির্দেশ দিয়েছে শোডাউন হবে না। তখন হেলমেট পড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হলো। তাদের এই হামলা নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের যে গতি তা নিবারণের জন্য। মূলত সরকারের ষড়যন্ত্র নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবুও আমরা নির্বাচনে আছি এবং থাকবো।

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট বার প্রাঙ্গণে হওয়া মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক জয়নুল আবেদীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঐক্যফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখনে জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া সারা দেশ থেকে আনা স্থানীয় বারের নেতারাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ