প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে পূর্ণবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ৬৯ লাখ, শিশু ১৭ হাজার

মোহাম্মদ রুবেল : বর্তমানে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬৯ লাখ। এরমধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ৫৭ ভাগ রোগীই জানেনা তাদের অবস্থা সম্পর্কে। এ ছাড়া, দেশে ১৭ হাজার ৫৭ জন শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ অবস্থায় এখন থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২০৪৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৩৭ লাখে পৌঁছবে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের মোট ডায়াবেটিসের শতকরা ৯০ ভাগ টাইপ ২ জাতীয় ডায়াবেটিসে এবং বিশ্বে বর্তমানে ৩০ কোটির অধিক লোক এই প্রকার ডায়াবেটিসে ভুগছে। প্রতিবছর ৫০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনো কারণে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি অ্যাপক এ কে আজাদ খান আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, ডায়াবেটিস টাইপ-১ রোগীদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় নিয়মিত ইনসুলিন নেওয়া। ইনসুলিন পাওয়া তাদের অধিকার। সরকারের উচিত ইনসুলিন প্রাপ্যতা সহজ করা। যারা কিনতে পারে না, তাদের বিনা মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এ প্রেক্ষিতে যদিও ডায়াবেটিস সমিতি দেশব্যাপি বিনামূল্যে ১ লাখ মানুষের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস স্ক্রিনিংয়ের কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রম ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

স্বান্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস অসংক্রামক রোগ হয়েও বিশ্বে তা সংক্রামক রোগের মতোই মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। একে প্রতিরোধ করতে আমরা নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। সময়মতো ওষুধ খাওয়া, ইনসুলিন নেওয়া এবং নিয়মিত খাবার খাওয়া কেবল একা রোগীকে সচেতন হলে হবে না। তাইা শুধু ডায়াবেটিস রোগীকে নয়, রোগীর পরিবারকেও প্রশিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন কারও ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না (টাইপ ১ ডায়াবেটিস), কারও ক্ষেত্রে ইনসুলিন তৈরি হয় প্রয়োজনের তুলনায় কম (টাইপ ২ ডায়াবেটিস), আবার কোনো ক্ষেত্রে ইনসুলিন তৈরি হলেও তা কোষে পৌঁছাতে পারে না কোষের জটিলতার কারণে (টাইপ ২ও অন্যান্য ডায়াবেটিস)। তখনই রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের উপস্থিতি দেখা যায়। এর ফলে বাধাগ্রস্ত হয় বিভিন্ন নিয়মিত শারীরিক প্রক্রিয়া। দেখা দেয় বহুম‚ত্র রোগ, অতিরিক্ত ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা ও খুব সহজে কিছুদিন পরপর রোগজীবাণুর সংক্রমণ।

অধ্যাপক আজাদ বলেন, এটি জীবনব্যাপী রোগ বলে এর জন্য খরচ অনেক বেশি হয়। সব পরিবারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব নয়। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারে এই উদ্বেগ বেশি। পরিকল্পিত গর্ভধারণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে হবে। গর্ভককালীন সময়ে মায়েদের পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এ সময়ে পুষ্টি ঠিক থাকলে, ওজনও ঠিক থাকে। এ ক্ষেত্রে গর্বের শিশু ও গর্ভবতী মায়ের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মুক্ত থাকে। সম্পাদনায়: সোহেল রহমান, হুমায়ুন কবির খোকন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ