Skip to main content

দলীয় মনোনয়নে দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা আওয়ামী লীগের!

আসাদুজ্জামান সম্রাট : দশ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলে অনেক নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে কোন্দলও। এজন্য দলীয় মনোয়নের ক্ষেত্রে দ্ব›দ্ধ পরিহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ফলে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণায় বিলম্ব হচ্ছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন। কোনো কোনো আসনে তা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। এতোবেশি সংখ্যক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় আসন ওয়ারী সাক্ষাৎকার নেয়নি আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে গণভবনে একটি বৈঠকেই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এমন কর্মীসভার মতো করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিরল। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সারা দেশে ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। গড়ে এক আসনের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থী থাকাটা আওয়ামী লীগের জন্য সুসংবাদের পাশাপাশি দু:সংবাদ বয়ে এনেছে। প্রত্যেক প্রার্থীই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব বলয় তৈরি করে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা চালিয়েছে। ফলে দলগতভাবে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল মিটানোই এখন আওয়ামী লীগের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। জানা গেছে, দলের নিজস্ব জরিপ, বিভিন্ন সংস্থা ও বিদেশি জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছেন দলীয় প্রধান। যে সব আসনে সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মহাজোটের ৬০-৭০টি আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। দলের সংসদীয় বোর্ডের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ৬-৭টি বিশেষ জরিপের রিপোর্টে যেসব প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন এবং যার নির্বাচনী এলাকায় কোন্দল প্রবল নয় প্রথমেই তাদের প্রার্থীতা চ’ড়ান্ত করা হবে। এরপর যেসব এলাকায় কোন্দল প্রবল সেসব এলাকায় কোন্দল মেটানোর চেষ্টা চালানো হবে। যাকে মনোনয়ন দিলে কোন্দল থাকবেনা এমন প্রার্থীকেই সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে। দলের কোন্দল প্রবল এমন আসনে জোটের অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেয়াও হতে পারে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের কোন্দল মেটাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ঘোষণা বিলম্ব হতে পারে। আগে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোন্দলপ্রবণ এলাকাগুলোকে নিজেদের প্রার্থী চ’ড়ান্ত করার জন্য বলা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা জানা নাও যেতে পারে। তবে যেসব সংসদ সদস্যের দলীয় মনোনয়ন চ’ড়ান্ত তাদের এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হতে পারে।

অন্যান্য সংবাদ