প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধনীদের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন যিনি

আল আমিন : একবার সিরিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য নিয়ে আবদুর রহমান বিন আউফের একটি বাণিজ্য কাফেলা মদিনায় এলো। ৫০০ মতান্তরে ৭০০ উটের পিঠে মালপত্র বোঝাই ছিল। এতে মদিনায় রব পড়ে গেল। উম্মুল মোমিনিন আয়শা (রা.) বললেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আবদুর রহমান জান্নাতে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করবে।’ উম্মুল মোমিনের এ কথা আবদুর রহমানের কানে গেল। তিনি বললেন, ‘হে জননী! আমি এ বিশাল বাণিজ্য সম্ভার আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিলাম।’ (উসদুল গাবাহ)

হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম (ধনী হিসেবে) জান্নাতে প্রবেশ করবে আবদুর রহমান বিন আউফ। তিনি হামাগুড়ি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।’ (মুসনাদে বাজ্জার : ৭০০৩) ইবনে হাজার (রহ.) আল-ইসাবা গ্রন্থে উল্লেখ করেন, আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) মোট ৩০ হাজার দাস মুক্ত করেছেন। তিনি আল্লাহর রাস্তায় ৪০ হাজার দিনার, ৫০০ ঘোড়া এবং ৫০০ বাহন দান করেছেন। (উসদুল গাবাহ)

অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও দুনিয়াবিমুখ। সম্পদের ব্যাপারে সবসময় ভয়ে থাকতেন। সাদ ইবনে ইবরাহিম তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, একদিন আবদুর রহমান বিন আউফ সিয়াম পালন করছিলেন। ইফতারের সময় তার সামনে উত্তম খাবার পরিবেশ করা হলো। এ খাবারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘মুসয়াব ইবনে উমায়ের ছিলেন আমার থেকে উত্তম মানুষ। তিনি শহীদ হলে তার জন্য মাত্র ছোট্ট একখানা কাফনের কাপড় পাওয়া গিয়েছিল। তা দিয়ে মাথা ঢাকলে পা এবং পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত। এখন আল্লাহ আমাদের জন্য দুনিয়ার প্রাচুর্য দান করেছেন। আমার ভয় হয়, না জানি আমাদের বদলা দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ অতঃপর তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন এবং খাবার গ্রহণ করেননি। (উসদুল গাবাহ)

আরেকবার তার সামনে গোশত ও রুটি পেশ করা হলে তিনি কাঁদতে শুরু করেন। অতঃপর বলেন, ‘প্রিয়তম রাসুল (সা.) এমতাবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন যে, তিনি এবং তাঁর পরিবার যবের রুটি পেটপুরে খেতে পারেননি। জানি না, আমাদের উত্তম জিনিস থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কিনা।’ (ইতহাফ : ৭৩৪২)

আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবি। তিনি নবীজির সঙ্গে সব যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেছেন এবং অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দেন। রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় শুধু দুইজন সাহাবি তাঁর ইমামতি করার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তারা হলেন আবুবকর সিদ্দিক ও আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)

হিজরি ৩১ মতান্তরে ৩২সনে মদিনায় তার মৃত্যু ঘটে। তখন তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাকে বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওসমান বিন আফফান (রা.) তার জানাজা পড়ান। মারা যাওয়ার আগে তিনি এর অসিয়ত করে গিয়েছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত