প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এবার শেরপুর সীমান্ত দিয়ে ভূটান থেকে আসবে কয়লা ও পাথর

শাহীন চৌধুরী: দেশের চাহিদা মেটাতে এবার শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে ভুটান থেকে আমদানি করা হবে কয়লা ও পাথর। এ লক্ষ্যে ভুটানের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে স্থলবন্দর এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, স্থলবন্দরটি ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। আমদানিকারকরা শুরু থেকেই ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি করেন এ বন্দর দিয়ে। পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং জেলার একটি পরিবেশবাদী সংগঠন ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) আদালতে কয়লা ও পাথর উত্তোলন বন্ধে একটি রিট মামলা দায়ের করে।

ওই মামলাটির ফলে ভারতের পরিবেশ বিষয়ক আদালত অস্থায়ী ভাবে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও স্থানান্তর করা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এতে ভারত থেকে কয়লা এবং পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় তিন হাজার শ্রমিকবেকার হয়ে পড়েন।
কয়লা ও পাথর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আদালতে ভারতের পরিবেশবাদী সংগঠনের করা ওই রিটের কারণে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রযেছে। তাই বিকল্প পথ হিসেবে আমরা ভুটানের ব্যবসায়ীদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। খুব শিগগির কয়লা, পাথর ও ফলমূল আমদানি করবো। এছাড়াও আমরা আশা করছি সকল বৈধ পণ্য ভারতে রপ্তানি করতে পারবো।

এ বিষয়ে সহকারী কাস্টমস কর্মকর্তা নাজমুল আহসান বলেন, আইনি জটিলতার কারণে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাথর অল্প পরিসরে আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভূটানের সাথে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হলে এবং ভারতে অভ্যন্তরীণ সৃষ্ট সমস্যা সমাধান হলে অচিরেই এ বন্দরে কর্মতৎপরতা ফিরে আসবে। সেই সাথে বন্দরের রাজস্ব আয়ও কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে।

কাস্টমস-এর সহকারী কমিশনার রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটি আবেদন করেছেন। এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বর্তমানে দেশে মাত্র দুটি বন্দর দিয়ে ভূটানের পণ্য আমদানি হচ্ছে, সে হিসাবে এই বন্দরেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেহেতু দেশে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসছে তাই ভূটান থেকে স্থল পথে কয়লা আমদানিকে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে এই পথে সাশ্রয়ী মূল্যে কয়লা আমদানি করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কয়লা ভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। এতে দেশের রাজস্ব যেমন সাশ্রয় হবে তেমনই কমমূল্যে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পাবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ