মো: মারুফুল আলম: বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেছেন, আমাদের নেতৃবৃন্দের কমিটমেন্ট অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৩৩ শতাংশ নারীর ক্ষমতায়ন হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার সংখ্যা খুবই কম। এর প্রথম কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে নারীরা দূর্বল। আরেকটি গরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে মাসল পাওয়ার। নারীদের মাসল পাওয়ার নেই। এরপর ক্ষমতার রাজনীতিতে অনেক সময় কাটছাট করা হয়। সেই কাটছাটের পরিমান নারীর ভাগ্যে বেশি জুটে। আরেকটি কারণ হচ্ছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা নারীরা তেমন পদ পায় না। এমপি মহোদয়ের বউ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বউকে মহিলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী করে দেওয়া হয়। এসব কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
ফাহমিদা শম্পার সঞ্চালনায় ডিবিসি নিউজের ‘রাজনীতিতে নারী’ বিষয়ক আলোচনায় বৃহস্পতিবার নারীদের রাজনীতিতে না আসার কারণ হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপি’র সাবেক সাংসদ হেলেন জেরিন খান।
নাজমা আক্তার বলেন, বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন মাত্র ১৮ শতাংশ। ৩৩ শতাংশ হচ্ছে নারীর অধিকার। এ অধিকার অর্জনে আগে নারীদেরকে রাজনীতিতে আসতে হবে। হঠাৎ করে একজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সে হেরে যাবার সম্ভাবনা বেশি। তাই নারীদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে আগে। সরকার চালানো বা দল চালানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আমাদের যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয় তাই মন্ত্রীসভায় এখনও হয়তো নারীদের সংখ্যা অনেকাংশে কম।
বিএনপির সাবেক সাংসদ হেলেন জেরিন খান বলেন, ‘রাজনীতি’ এবং ‘তৃণমূল’ শব্দ দুটি একে অপরের সাথে জড়িত। তৃণমূল থেকে যারা রাজনীতি করে আসে দেখা যায় তারাই কেন্দ্রে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারে। অথচ এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও পারিবারিক সূত্রে নেতৃত্বে আসার মাত্রা বেশি। তৃণমূল যদিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তবুও দেখা যাচ্ছে অবহেলিত হচ্ছে তৃণমূলরা। আজকে দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমরা নিজেদেরকে রাজনীতিতে উৎসর্গ করেছি তবুও আমরা চরমভাবে ব্যর্থ। পার্লামেন্টের দিকে তাকালে দেখবেন মাত্র ৭% নারী। দলগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন আওয়ামী লীগে আছে ১৫% আর বিএনপিতে আছে ১৩%। এই হলো নারীদের অবস্থান। যেটা খুবই লজ্জাজনক।
হেলেন জেরিন বলেন, দেখা যায় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে উঠে আসা তেমন কেউ থাকে না। দেখা যায়, কারো স্বামী মারা গেছে, তাই স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে আবার কারো বাবা মারা গেছে, মেয়েকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও যাদের অধিকার ৫০ শতাংশ, সেই নারীদের অবস্থান আজ কোথায়?
যেসব জায়গায় নারীরা নির্বাচিত হয়েছে তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, তারা কিন্তু সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। নির্বাচনী কাজেও দেখবেন নিজেদের বাচ্চাদের বঞ্চিত করে তারা কাজে সময় দেয়। যেসব ক্ষেত্রে নারী হিসেবে আমাদের দূর্বলতা আছে সেসব ক্ষেত্রে যদি ছাড় দেওয়া হয় তাহলে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ফল আসবে। তারপরও নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করেন নাজমা।
জেরিন বলেন, যে কোন সমাজকে আমূল পরিবর্তন করতে মূল নেতৃত্ব দেয় রাজনীতিবিদরা। সেই রাজনীতিতেই যদি নারীদের অবস্থান মাত্র ৭% হয় তো সেটা একটা দূর্ভাগ্য। এ বিষয়ে দুই দলের মধ্যেই একটি সমঝোতা থাকা দরকার। দুই দলেরই নারীদের আসনগুলো নিশ্চিত করার ব্যাপারে সমঝোতা থাকা উচিত। ৩৩ শতাংশ নারীর ক্ষমতায়ন এটা কিন্তু কারো করুণা নয়, এটা আমাদের অধিকার। ৩৩ শতাংশ নারীকে বিশেষ করে নির্বাচনে অবশ্যই অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং একইভাবে দলগুলোর পদেও । ২১ সালের মধ্যে টার্গেট ফীলআপ করতে এখন থেকেই সেটা শুরু করা উচিত। শুধুমাত্র সংরক্ষিত আসন না। নারীসমাজের দাবি হচ্ছে ১০০টি আসন।
নারীরা রাজনীতিতে অনেক বেশি স্বচ্চ উল্লেখ করে জেরিন বলেন, নেগেটিভ সিটগুলোতে নারীদেরকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পজিটিভ সিটগুলোতে যদি নারীদেরকে দেওয়া হয় তাহলে নারীরা উঠে আসবে।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদেরকে কোটার মধ্যে (মহিলা দলে বা সংরক্ষিত দলে) ফেলে দেওয়া হয় এটাও রাজনীতিতে নারীদের উঠে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ বাধা বলে মনে করেন জেরিন।