প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লক্ষ্মীপুরে সরকারিভাবে দেয়া ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাসিত পরিবারগুলো

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: জমি আছে ঘর নেই এ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ঘর পাচ্ছেন ৫৭৩টি পরিবার। সদর উপজেলার চর রুহিতা, উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, টুমচর, শাকচর, উত্তর জয়পুর ও হাজিরপাড়াসহ ৭টি ইউনিয়নে ৫৭৩টি পরিবার একটি করে ঘর পাচ্ছেন। ৭টি ইউনিয়নে একযোগে তৈরী হচ্ছে নতুন ঘর। ঘর তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে শতাধিক শ্রমিক। প্রতিটি ইউনিয়নে একই সময়ে চলছে ঘর নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে কয়েকজন সুবিধাভোগীকে তাদের জন্য নির্মিত ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আর সরকারী ভাবে বিনামূল্যে এই সব ঘর পেয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে দরিদ্র পরিবার গুলোতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ঘর তৈরিতে গুণগত মান ধরে রাখতে অটল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ শাজাহান আলি। তিনি ঘর নির্মাণের এ প্রকল্প বাস্তবায়নকে একটি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে নিয়েছেন। সরকারী বরাদ্ধের মধ্যে উন্নতমানের ঘর তৈরী করে এ প্রকল্পে দেশের সেরা ঘর নির্মাতা হতে চান তিনি। রাজমিস্ত্রীরা তৈরী করছে ঘরের খুঁটি, টয়লেটের রিং-স্লাব। কাঠ মিস্ত্রীরা ঘরে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করেছে কাঠ। ইতোমধ্যে মিল থেকে আনা হয়েছে উন্নতমানের ঢেউটিন। প্রায় সব ইউনিয়নে একই সময়ে চলছে ঘর নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক সুবিধাভোগীকে তাদের জন্য নির্মিত তাদের স্বপ্নের ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ঘর পেয়ে মহাখুশী তারা, তাদের পরিবারে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় নতুন নতুন ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। আর সুবিধাভোগীরা ঘর বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করছেন।

সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ৫৭৩টি ঘর তৈরি করা মানে একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্বল্প বাজেটের মধ্যে টেকসই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘর তৈরীতে উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এসব ঘরের স্থায়িত্ব অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, ঘর তৈরীতে সিমেন্টের পিলার তৈরির জন্য উন্নত মানের ইটের কঙ্কর, মানসম্মত কোম্পানীর সিমেন্ট ও ৬০ গ্রেড রড ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্টের পিলার তৈরীর জন্য রড দিয়ে খাঁচা তৈরীর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনেই ঢালাই দেয়া হয়েছে। যার কারণে কোন ভাবেই পরিমাণ কম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ হয়নি। এছাড়া ঘরের চালার জন্য ৩৬ এম এম ঢেউ টিন মিল থেকে কিনে গুদামে রাখা হয়েছে। এই সব ঢেউ টিন গুদাম থেকে নিয়ে ঘর তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘর নির্মাণের এ কাজ উপজেলা নির্বার্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাজাহান আলি নিজেই তদারকি করছেন। প্রতিদিনই উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘর নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাজাহান আলির তৎপরতা অব্যাহত থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ৫৭৩ জন সুবিধাভোগীর নিকট তাদের কাঙ্খিত ঘর বুঝিয়ে দেয়া যাবে বলে জানান তারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাজাহান আলি বলেন, সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে স্বচ্ছতার সাথে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এ প্রকল্পে সীমিত বাজেটের মধ্যে উন্নতমানের দেশের সেরা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক পরিবারে মাঝে তাদের ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি সল্প সময়ের মধ্যে বাকি ঘর গুলো বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ