প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের প্রতি আস্থা রাখতে পারেনি : জাতিসংঘে বাংলাদেশ

তরিকুল ইসলাম : মিয়ানমারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মিয়ানমারের ছাড়পত্র অনুযায়ী কিছু রোহিঙ্গা পরিবার ও সদস্যদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কাজ গত ১৫ নভেম্বর শুরু করতে সম্মত হয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সদস্যরা মিয়ানমারের আশ্বাসের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখতে পারেনি এবং একটি পরিবারও মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত হয়নি।

শনিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সংস্থাটিতে দেওয়া বক্তব্য বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, রোহিঙ্গাদের ধরে রাখা বা জোর করে ফেরত পাঠানো এর কোনটিতেই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ নেই।

বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনা রেজুলেশন সমর্থনে সদস্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ হতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্যোগী হতে হবে।

বার্তায় জানানো হয়, জাতিসংঘের সদর দফতরে ১৬ নভেম্বর মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশগুলোর উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথভাবে আনীত একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। ১৪২টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ১০টি দেশ এবং ভোট দেয়নি ২৬টি দেশ।

রেজুলেশনটি ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পক্ষে তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষে অস্ট্রিয়া বক্তব্য রাখে। তুরস্ক ও অস্ট্রিয়ার বক্তব্য সমর্থন করে রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। ভোটগ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে প্রায় সব সদস্য দেশ রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ