প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবার বিকল্প রুট এখন সিলেট!

শোভন দত্ত : ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট টেকনাফ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। তবে থেমে নেই এ মাদকের চোরাচালান। চোরাকারবারিরা এখন বিকল্প রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে সিলেট সীমান্তের চারটি পয়েন্ট। অন্তত নভেম্বরে এ রুটে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ধরা পড়ার ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ নভেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তের সেনাপতি চক নামক স্থানে ৬১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। একই দিন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১৪শ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে র‌্যাব। এ সীমান্তে একদিনে এত পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করার ঘটনা এটিই প্রথম। এছাড়া চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জকিগঞ্জ সীমান্তে শুধু বিজিবিই জব্দ করেছে এক লাখের বেশি ইয়াবা। মাদক চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে অন্তত ২০ জনকে। সূত্র : বনিক বার্তা

আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্যমতে, সিলেট বিভাগ-সংলগ্ন সীমান্তের চারটি পয়েন্ট দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও টেকেরঘাট এবং হবিগঞ্জের বাল্লা সীমান্ত। তবে এর মধ্যে জকিগঞ্জ দিয়েই সবেচেয়ে বেশি ইয়াবা আসছে। মূলত গত বছর থেকে এ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসা শুরু হয়। তবে চলতি বছরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

বিজিবির ১৯ ব্যাটালিয়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ সীমান্তে ৫২১ পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জব্দ করা হয় ১৫ হাজার ৪৬৫ পিস। আর চলতি বছরের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত কেবল বিজিবিই জব্দ করেছে এক লাখেরও বেশি।
জকিগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার। ভারতীয় অংশের পুরোটাতেই কাঁটাতারের বেড়া। এ দীর্ঘ সীমান্তে দুই দেশকে বিভক্ত করেছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। সীমান্ত পাহারায় রয়েছে বিজিবির প্রায় ১৫টি বিওপি। নদীর তীর ধরে একটি বেড়িবাঁধ রয়েছে বাংলাদেশ অংশে। মূলত সে বাঁধ ধরেই টহল দেন বিজিবি সদস্যরা। কিন্তু বাঁধটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক বছর ধরে যানবাহন ব্যবহার সম্ভব হয় না। হেঁটেই টহল দিতে হয়। আর এ সুযোগই নেয় চোরাকারবারিরা।
ইয়াবা আসার আগে এ সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, হিরোইন ও গরু চোরাচালানের অভিযোগ ছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা স্বীকার করেন, সিলেটের কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে ইদানীং ইয়াবা আসা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশি আসছে জকিগঞ্জ দিয়ে। তবে বিজিবি ও র‌্যাবকে নজরদারি বৃৃদ্ধির অনুরোধ করায় এখন বড় বড় চালান ধরা পড়ছে। টেকনাফ সীমান্তে কড়াকড়ির কারণেই মাদক ব্যবসায়ীরা এ নতুন রুট বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সিলেটের সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবা মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে আসছে নাকি ভারতীয় ইয়াবা সরাসরি আসছে, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে বলছেন, ইয়াবা মিয়ানমার থেকে ভারতের মিজোরাম রাজ্য হয়ে সেখান থেকে আসাম ও মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অন্যদের ধারণা, জকিগঞ্জ ও বাল্লা সীমান্তের ওপারে ভারতেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ইয়াবা কারখানা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, সিলেট ও ভারত দুই সীমাš এলাকায় রয়েছে বেশকিছু ইয়াবা ব্যবসায়ী। সেলফোনে ওপারে চালানের অর্ডার দেয়া হয়। ভারতে অবস্থানরত ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা পাঠানো হয় হুন্ডির মাধ্যমে। এরপর রাতে কাঁটাতারের বেড়া টপকে এপারে পাঠানো হয় চালান।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জকিগঞ্জকেই ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়েছে। ইয়াবা পাচারের গডফাদারদের ধরতে আমরা তৎপর আছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ