প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গৃহশ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগগুলো টাকার জোরে সমাধান হয়ে যায় : নাজমা ইয়াসমিন

মো: মারুফুল আলম : ‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ এর মহাসচিব নাজমা ইয়াসমিন বলেছেন, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে গৃহশ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগগুলো অভিভাবকরা মিউচুয়ালী সমাধান করে ফেলেন। এই কাজগুলো নিয়ে আমরা যারা অর্গানাইজেশনের সাথে আছি, আসলে বেশি দূর আগাতে পারি না। শনিবার বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।

নাজমা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের দেশে দুই ধরণের গৃহশ্রমিক কাজ করে। একটি হচ্ছে যারা ২৪ ঘন্টা বাসায় কাজ করে। অপরটি, যারা বাসায় খন্ডকালীন কাজ করে। কিন্তু নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে তাদের উপর যারা ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। এদের বয়স ১৪-১৮ বছরের মধ্যে।
প্রসঙ্গত, বিশে^র অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে ‘মি টু’ আন্দোলন শুর হয়েছে। বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তদন্ত করবার কথাও জানিয়েছে।

‘মি টু’ আন্দোল হচ্ছে মূলত পরিচিত, বিখ্যাত বা নামীদামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বা যৌন হয়রানীর ঘটনাগুলোকে সামনে নিয়ে আসা। কিন্তু বাংলাদেশের দরিদ্র মেয়েরা, বিশেষ করে গৃহকর্মী হিসেবে বাসায় যারা কাজ করেন তাদের উপরও নির্যাতনের অভিযোগ আসে। এ প্রসঙ্গে নাজমা বলেন, শারীরীক নির্যাতনটা বেশি হয়। যৌন নির্যাতনের অভিযোগও কিছু আসে। তবে এটা প্রমাণ করা যায় না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ করতে চায় না কেউ। প্রকাশ করলেও এটা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়। কারণ ঐ অভিযোগটার পেছনে কোন প্রমাণ রাখতেও পারে না ভুক্তভোগিরা। গত তিন মাসে পত্রিকার রিপোর্টে দেখা গেছে, ছয় থেকে আটজন গৃহশ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতি মাসে এভারেজে দুইটি রিপোর্ট হয়। কিন্তু কোন কেসই আলোর মুখ দেখেনি শেষ পর্যন্ত।

ঘটনা ঘটেছে, পত্রিকায় এসেছে এবং আপনাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে তারপরও আলোর মুখ দেখেনা কেন জানতে চাইলে ‘গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক’ এর মহাসচিব বলেন, তার কারণ হচ্ছে অভিভাবকরা আসলে মিউচুয়ালী সমাধান করে ফেলেন। আপনাকে একটি বিষয়ে শেয়ার করতে চাই, তিনটি বড় সংগঠন একসাথে কাজ করার পরও মৃত্যুর মত কেইসও মাত্র ষাট হাজার টাকা দিয়ে সমাধান হয়ে গেছে।
‘সমাজের কোন শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো আসে’ এর উত্তরে নাজমা বলেন, সব শ্রেণীর বিরুদ্ধেই অভিযোগগুলো আসে। যারাই এই ঘটনাগুলো ঘটান তারা টাকা দিয়ে এটাকে সমাধান করার চেষ্টা করেন। দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবার থেকে গৃহশ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। স্বাভাবিকভাবেই যারা নিয়ে আসেন তারা প্রভাবশালী থাকেন, তাই ঐ পরিবারগুলো এসব বিষয়গুলো নিয়ে মুভ করে না, বরং চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে।

তাছাড়া পত্রিকায় যা খবর আসে তাতে বাস্তবচিত্র পুরোপুরি পাওয়া যায় না। সেটুকুকে প্রকাশ করে ন্যায়বিচার বা ন্যায্যতা এনে দিতে আমরা পারছি না। আমরা সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেলেও অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা ভুক্তভোগিদেকে কন্ট্রোল করে ফেলে বললেন নাজমা ইয়াসমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ