Skip to main content

আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত উৎসবে সুর ভুলিয়ে দিল ভাষার ভিন্নতা

অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক লোক সঙ্গীত উৎসবে ভাষার ভিন্নতা থাকলেও দূরত্ব ঘুচে গিয়ে সুর সবাইকে এক করে দিয়েছে।সারাবিশ্বের লোকগানেই উঠে আসে মানুষের সেই আনন্দ-বেদনার কাব্য। সূত্র : ইত্তেফাক। ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের চতুর্থ আসরের দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। শুরুতেই ছিল বাংলাদেশের তরুণদের দল স্বরব্যাঞ্জোর গান। এরপর মাজাজ ব্যান্ডের শিল্পীরা আরবের সুর তুলে ভাসিয়ে নিয়েছে আর্মি স্টেডিয়াম। এরপর এসেছে ভারতের দল রঘু দিক্ষিত প্রজেক্ট। দ্বিতীয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী বিখ্যাত ব্যান্ড লস টেক্সমেনিয়াক্স। সবশেষে বাংলাদেশের ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আর্মি স্টেডিয়াম উপচে পড়েছিল শ্রোতা-দর্শকদের পদচারণায়। সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও সান কমিউনিকেশনের আয়োজনে মেরিল নিবেদিত এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, গ্রামীণফোন ও রাঁধুনী। রাজশাহীর ব্যতিক্রমী ব্যান্ড দল স্বরব্যাঞ্জো। ফোক ফিউসনধর্মী দলটি এই প্রথম গান গাইলেন ফোক ফেস্টের মঞ্চে। শুধু গান দিয়েই নজর কাড়েনি দলটি, গান নিয়ে তাদের ভাবনাচিন্তাও আলাদা করেছে স্বরব্যাঞ্জোকে। গান-বাজনা ও হাওয়ার চিঠি নামে তাদের দুটি অ্যালবাম থাকলেও তা বাজারে ছাড়া হয়নি, তবে ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। গতকাল স্বরব্যাঞ্জোর শিল্পীরা গানে গানে মাতালেন ঢাকার শ্রোতা-দর্শকদের। এ দলের সদস্যরা হলেন ভোকাল: বগা তালেব, রপক আহমেদ, আসিফ হাসান নিলয়, রাতুল সরকার; বাঁশি ও হারমোনিকা শহিদুল আলম জীবন, বগা তালেব; গিটার: বানা রত্ন, নিলয় ব্যাস: রুপক আহমেদ, তানভির-আল-আযাদ ভায়োলিন: অধরা শ্রেয়সী অথৈ পারকাশান ও কাহন: সঞ্জয় মল্লিক। তারা একে একে গেয়ে শোনান ‘জানি তে চাই দয়াল তোমার আসল নামটা কি’, ‘দেখ ভাল জনে রইল ভাঙা ঘরে, মন্দ লোকে সিংহাসনে চড়ে’, ‘শাল বৃক্ষের মতন সিনা টান মেরেছে’, ‘কাইন্দনা কাইন্দনা কন্যা না কান্দিয়ো আর সেই বাইগুন তুইল্যা দিমু তোমার গলার হার’ ‘ইন্দুবালা গো’ প্রভৃতি গান। এরপর মঞ্চে আসে অ্যারাবিয়ান উপদ্বীপের ছোট্ট আইল্যান্ড বাহ্রাইনের প্রগ্রেসিভ ফিউশন ব্যান্ড মাজাজ। মূলত একটি রক ঘরানার ব্যান্ড হলেও পারস্য, এরাবিয়ান, টার্কিশ, বলকান, সেলটিক সুরের মিশ্রণে তারা নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করেছে। ২০১৩ থেকে টানা তিন বছর মঞ্চে শুধু লাইভ পারফরমেন্স করেছে তারা। জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তি পায় তাদের প্রথম সিঙ্গেল এলবাম। পরের বছর তাদের রেকর্ড ‘রিহালা’ বিশ্বজুড়েই প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে এই ব্যান্ডে রয়েছেন জীহাদ আল হালাল- চেলো, আবদুল্লাহ্ ফয়সাল- পারকাশানস্, সালাহ্ শারাখাত- বেস এবং হামিদ আল সাঈদ - গিটার। মিউজিক্যাল এ ব্যান্ডের পরিবেশনা নতুন সুরের স্বাদ এনে দিল উত্সবে আসা দর্শক-শ্রোতাদের। রঘুপতি দ্বারকানাথ দিক্ষিত এ সময়ে ভারতের লোকসংগীত শিল্পীদের মাঝে জনপ্রিয় নাম। আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক সুরকে সঙ্গী করে রঘু দিক্ষিত প্রজেক্ট পরিবেশন করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত। রঙিন লুঙ্গি এবং ফতুয়া পরে মঞ্চ মাতানো এই দলটির গানে পাওয়া যায় কান্নাড়া কবিতার অনুপ্রেরণা। রঘু দিক্ষিত প্রজেক্টের গানে উঠে আসে বিশ্ব সঙ্গীতের ধারায় ভারতের ঐতিহ্য এবং আবেগের কথা। বিশ্বের বড় বড় সঙ্গীত উত্সব মাতিয়ে গতকাল মাতালেন বাংলাদেশের দর্শকদের। বর্তমানে রঘু দিক্ষিত প্রজেক্ট ব্যান্ডের সদস্যরা হলেন- রঘুপতি দ্বারকানাথ দিক্ষিত, নেরেশ নাথান, জো জ্যাকব, নাভিন থমাস। এরপর মঞ্চে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল লস টেক্সম্যানিয়াক্স। তেহানো মিউজিক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ম্যাক্স বাকা ১৯৯৭ সালে এ ব্যান্ডটি গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে ব্লুজ, ফোক, কান্ট্রি, জ্যাজ এবং রক মিউজিকের প্রভাব পাওয়া যায় টেক্সাসের এই ব্যান্ডটির গানে। ব্যান্ড সদস্যদের মধ্যে ম্যাক্স বাকা’কে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম বাহো সেক্সতো বাদক। অপরদিকে জশ বাকা অসাধারণ অ্যাকোর্ডিয়ান বাজানোর সাথে ‘তেহানো মিউজিক’ এর মৌলিক বিষয়কে রপ্ত করে নিয়েছেন নিজ ভাষায়। এর নাম দিয়েছেন ‘টেক্সাস গামবো’। ড্রামার ও মাল্টি ইন্সট্রুমেন্টালিস্ট লরেনজো মার্টিনেজ ব্যান্ডের গানে এনেছেন মেক্সিকান-চিকানো আমেরিকান প্রভাব। এছাড়াও এ দলে রয়েছেন নোয়েল হার্নান্দেয, উইল জে.লস, ফ্লাকো ইয়েমিনেজ। বাংলাদেশের সাড়া জাগানো শিল্পী মমতাজ বেগম। গানের জনপ্রিয়তা তাকে এনে দিয়েছে সংসদ সদস্য হওয়ার সম্মান। গতকাল উত্সবের দ্বিতীয় দিনের শেষ আকর্ষণ ছিলেন তিনি। তার গানে নেচে উঠে পুরো স্টেডিয়াম। ভিন্ন ধারার গান পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ফোকসম্রাজ্ঞী নামেও বহুল পরিচিত এই শিল্পী। তার বাবা মধু বয়াতির কাছে সঙ্গীতে হাতেখড়ি এরপর তিনি রাজ্জাক দেওয়ান এবং শেষে আব্দুর রশীদ সরকারের কাছে গান শিখেন। দুই দশকেরও বেশি তার সঙ্গীত জীবনে ৭০০টিরও বেশি একক অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। সম্পাদনা : দেবদুলাল মুন্না