প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপ, রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচন

ড. এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া : দশ বছর পরে বাংলাদেশ আবারো একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে। সবগুলো রাজনৈতিক দলের এই ঐকমত্য কী করে সম্ভব হলো? আগামী নির্বাচন থেকে আমাদের কী প্রত্যাশা থাকা উচিত?

২০১৪ সালে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের বয়কটের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় নির্বাচন হয়েছিলো, তাতে অধিকাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই পৃথক কারণে চেয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন একপাক্ষিক না হয়।

এই মুহূর্তে বিএনপি তার চল্লিশ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে জেলে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক জিয়া অনেকগুলো দুর্নীতি মামলা আর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে লন্ডনে অর্ধ-নির্বাসিত। অনেক বিএনপি কর্মী মামলা কাঁধে নিয়ে পলাতক। জোরদার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মানাতে অপারগ বিএনপি যদি এবারো নির্বাচন বয়কট করতো, হয়তো অধিকাংশ নেতাকর্মীই দল ছেড়ে পালাতো।

অন্যদিকে, শাসক দল আওয়ামী লীগও চেয়েছে একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কারণ, সরকারের দেশি-বিদেশি সমালোচকরা শুরু থেকেই ২০১৪ সালের নির্বাচনকে প্রহসন বলে মনে করেন। তাই বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে যাচ্ছেন তারা। আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব আর কারিশমার জোরেই এসব সামাল দিয়ে আসছে।

ঝানু রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতাকারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেয়ার পরে শেখ হাসিনা একমুহূর্ত নষ্ট না করে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ড. কামালের নেতৃত্বে ‘বিএনপি’ জোটকে গণভবনে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি দেশকে নৈরাজ্য থেকে বাঁচিয়েছেন। এইবার বিরোধী দল আলোচনা চালিয়েছে কোন বাইরের শক্তির মধ্যস্থতা ছাড়াই। দুই দফা আলোচনার মধ্যে সরকার ও ড. কামালের জোট একটা সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা কোন পক্ষই প্রকাশ করছে না। তবে তাঁদের মধ্যেকার সমঝোতার ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন এবং ‘বিএনপি’ জোটের রাজশাহী পদযাত্রা যুগপৎ বাতিল হবার মধ্য দিয়ে।

যদি এই সমঝোতা একটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত টিকে যায়, তাহলে তা হবে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এমন একটা নির্বাচন হবে, যেখানে সব দল অংশ নেবে এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে। আর তাহলেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ চিরতরে বিদায় নেবে। এজন্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

বিএনপি তার বিপুল সমর্থকগোষ্ঠির বদৌলতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কঠিন দৌড়ের ওপর রাখবে। তিনশ’ আসনেই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে এমন একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে। যদি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশ বঞ্চিত হবে সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের বিতর্ক চিরতরে নিরসনের একটা সুবর্ণ সুযোগ থেকে। লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রফেসর। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ