প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনে থাকুন

সমকাল : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে যে কোনো অবস্থায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকরা। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনও নির্বাচন বর্জন করার কথা চিন্তাও করে না। বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দল, দেশ ও গণতন্ত্রের বিরাট ক্ষতি করেছে। আগামীতে যাতে এ ধরনের ভুল আর না করে। একইসঙ্গে তারা বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনের ওপর ঐক্যফ্রন্টকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে গণমাধ্যম তার অবস্থান থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন তারা।

আগামী নির্বাচন নিয়ে গতকাল শুক্রবার গুলশানে লেক শোর হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বার্তা সংস্থার সম্পাদকরা এ মতামত দেন। জবাবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারাও নির্বাচনে থাকতে চান। তবে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রয়োজন। সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং সহযোগিতা করতে সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেসব সহযোগিতা দরকার, তার সবই সম্পাদকদের কাছে চাওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হয়ে ৫টা পর্যন্ত এ মতবিনিময় চলে।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের মতামত শোনেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েও যান তারা। আগামীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে ‘দলীয় সরকারে’র অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করবেন কি-না? বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবেন কি-না? ডিজিটাল আইন সংশোধন করবেন কি-না? এ ধরনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের পরে জবাব দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত এড়িয়ে গেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

মতবিনিময়ে অংশ নেন নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, দিনকাল সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তজা।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মুনশি আবদুল মান্নান, সিনিয়র সাংবাদিক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের প্ল্যানিং এডিটর সাখাওয়াত হোসেন লিটন, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, যুগান্তরের প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করীমসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মতবিনিময়ে অংশ নেন। ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির আসাদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদসহ ফ্রন্টের শরিক নেতারাও ছিলেন।

সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে ভেতরে থাকতে দেওয়া হয়নি। শুধু ফটোসেশনের অনুমতি দেওয়া হয়। অবশ্য সভাশেষে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সংবাদ কর্মীদের ব্রিফ করেন। বৈঠকের শুরুতে সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় সভা হয়। তবে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক পরামর্শের পাশাপাশি অতীত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বেশ তির্যক ভাষায় কিছু সমালোচনা করতেও ছাড়েননি সম্পাদকরা।

নেতারা যা বললেন :সূচনা বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, তারা দেশে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার চান। তারা দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং চান। নির্বাচন যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয় সে বিষয়ে সম্পাদকদের কাছে পরামর্শ চান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে নেতিবাচক বিষয়গুলো চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় শেষে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি মূল্যবান সভা ছিল। কেননা সম্পাদকরা বিভিন্ন ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন, তা জানতে চেয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি আছি, যারা নির্বাচন করতে যাচ্ছি, আমাদেরও কর্তব্য আছে। দলগুলোকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ যেন হয়, সেটাই তাদের লক্ষ্য। এটাকেই তারা সত্যিকার অর্থে মূল্যবান মনে করেন। ঐক্যফ্রন্টের সেই চেষ্টায় থাকবে। সরকারের আচরণের বিভিন্ন দিক তারা চিহ্নিত করেছেন। ঐক্যফ্রন্ট আশা করে, সংবাদপত্র এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবে। সমাপনী বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, দেশে শুধু নামে নয়, কাজেও গণতন্ত্র দেখতে চাই। প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্র চাই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেটা তারা পালন করছে কি-না সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সজাগ থাকতে হবে। খেলায় যথার্থ রেফারির কাজ করছে কি-না, তা দেখতে হবে।

সূচনা বক্তব্যে মির্জা ফখরুল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু দাবি মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে আরও চারশ’ গায়েবি মামলা হয়েছে। কাজেই এ পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্বাচনের পরিবেশ নয়।

বিগত নির্বাচনে কেন তারা অংশ নেননি সে ব্যাখ্যা দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এবারও সাত দফা দাবির মধ্যে একটি সরকার মানেনি। ‘হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটা তো’ সম্ভব নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটুকু অর্থবহ হবে সে বিষয়ে সম্পাদকের মতামত চান তিনি।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন করছে। আর বিএনপি মনোনয়ন বিক্রির সময় বিপুলসংখ্যক লোকের উপস্থিতি দেখেই হঠাৎ করে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধির কথা বলে একটি চিঠি দিয়ে দিল। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নয়- উসকানি দেওয়ার জন্য।

সভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম সংবাদ কর্মীদের জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে সম্পাদকদের কাছে। সমাপনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে অবশ্যই থাকবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্য গড়া এবং নির্বাচনের কথা বলে গেছেন। সে অনুযায়ী তারা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন।

‘গায়েবি মামলা’র তালিকা ও সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে- এমন এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এফআইআরের অনুলিপি দেখে দলীয় কার্যালয়ে এটা তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের জন্য পত্রিকা অফিসগুলোতেও এ তালিকা সরবরাহ করবেন।

নির্বাচনে থাকার ব্যাপারে সাংবাদিকদের পরামর্শের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা নির্বাচনে অবশ্যই থাকব। নির্বাচনে করবেন বলেই ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচনে সমতল ভূমি নেই। বিশেষ করে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণ করে। তারা খুবই প্রভাবশালী এবং তাদের ওপর সরকারের চাপ থাকবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের কেউ বিএনপি করে কি-না জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধান করার অনুরোধ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপির সম্ভাব্য পোলিং এজেন্ট ও কেন্দ্রপ্রধান নেতাকর্মীদের এখন থেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়িঘরছাড়া করা হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ চায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা ধৈর্য ধারণ করছি। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। সাংবাদিককের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, তারা একটি গণতান্ত্রিক সমাজ চান। ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান ভূমিকাকে জটিলভাবে না দেখে ইতিবাচক হিসেবে দেখার জন্য সম্পাদকদের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

সম্পাদকদের পরামর্শ :নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, দ্বিতীয় দফা নির্বাচন পেছানোর দাবি কেউ সমর্থন করেন না। বিদেশি পর্যটকদের আসার জন্য নির্বাচন পেছানোর দাবি যুক্তিযুক্ত নয়। ঐক্যফ্রন্টের দাবিগুলো যৌক্তিক হওয়া উচিত ছিল বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে এখনও বড় বাধা আছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে সিনিয়র এ সম্পাদক আরও বলেন, সবাই ভোট দিতে চায়। আপনাদের নেতিবাচক মনোভাব মানুষ ইতিবাচকভাবে নেয় না। যত বেশি ইতিবাচক বক্তব্য দেবেন তা কর্মীদের জন্য ভালো হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে আগামী দিনের ভিশন মানুষ ঠিকমতো বোঝে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিস্কার করে ভিশন তুলে ধরতে হবে। এটি নীরব ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য ভালো কাজে আসবে।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলেও দেশে বিরাট কোনো পরিবর্তন হবে না- এটা তার বিশ্বাস। তার পরও গণতন্ত্রের স্বার্থে যে কোনো অবস্থাতেই ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে যেতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফল সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মতিউর রহমান আরও বলেন, জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন যে মহান স্বাধীনতায় আমরা যেসব অর্জন করেছিলাম, দীর্ঘ ৪৮ বছরে তা একে-একে সব হারিয়ে ফেলেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক প্ল্যাটফর্মে আসায় সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চরম ভিন্নমত সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে একমঞ্চে উঠেছেন আপনারা। কেউ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বলছেন, কেউ বিরুদ্ধে বলার থাকলেও বলছেন না। এটা দেশে ইতিবাচক রাজনীতির কিছুটা অগ্রগতি বলে মনে করেন তিনি।

মতিউর রহমান বলেন, আমরা সবাই ভোট দিতে চাই। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রয়োজন। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সরকারের সঙ্গে সংলাপে কিছুটা হলেও লাভ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচন বর্জনের চিন্তাও করেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি অতীতের নির্বাচনের কিছু ঘটনাও তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রসিকতা করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি যেতে পারেন না। তার এ বক্তব্যের পর অনেকে হেসে ওঠেন।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টকে ধন্যবাদ। সারাদেশের মানুষ এটা ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। দেশে ভোট উৎসব শুরু হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে চায়। বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও অনেকেই নানা দাবি-দাওয়ার কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সে অবস্থানে থাকে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল, সরকারের ভেতর সরকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ডিজিটাল আইন সংশোধন করবে কি-না প্রশ্ন রাখেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক লুট, কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে দুর্নীতির বিচার করবে কি-না জানতে চান। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী ও ধর্মীয় দলগুলোকে আসন দেওয়ার পরিকল্পনা জানতে চান তিনি। তবে এগুলোর উত্তর দেননি নেতারা।

মতবিনিময়ের প্রথম বক্তা হিসেবে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলো কোরআন তেলাওয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে- এটা কেন? সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কি-না? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে তারা তুলে ধরবেন কি-না। তিনি জানতে চান নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর যে উৎসব হবে, তারা জয়ী বা পরাজিত হলে তা কীভাবে পালন করবেন। বৈঠকে মির্জা ফখরুল এসব প্রশ্নের নোট নিয়ে পরে উত্তর দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যদি জয়লাভ করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এ সময় নেতাদের একজন বলেন, এটা তো সংবাদ সম্মেলন নয়, মতবিনিময় সভা।

সভা শেষে খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে। যেমন আমরা ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করার চেষ্টা করি। ভারতে হোক, ব্রিটেনে হোক বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে- সবাই কিন্তু আগে থেকে জানেন যে, এই দল বা এই জোট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। সে বিষয়টা কিন্তু এই ফ্রন্টকে স্পষ্ট করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ