প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সবাই দোয়া করবেন আমি যেন সুস্থ থাকি’

আমাদের সময় : এমদাদ আলী ও আমিনা লায়লা দম্পতির আদরের কন্যা রুনা লায়লার ছোটবেলার প্রতিটি জন্মদিনই ছিল স্মরণীয়। ছোটবেলার জন্মদিন প্রসঙ্গ উঠতেই যেন একটু অন্যমনস্ক হয়ে যান তিনি।

রুনা লায়লা বলেন, ‘আমার ছোটবেলার সব জন্মদিন ছিল স্মরণীয়। জন্মদিন আসার আগেই মনের ভেতর এক ধরনের উৎসাহ কাজ করত, কী করব না করব। আমার মা আমার জন্য নতুন জামা সেলাই করে রাখতেন। আমার বড় বোন দীনা লায়লাও আমার জন্য জামা সেলাই করতেন। নতুন জামা, নতুন জুতা, চুলের ফিতা এসবই চাইতাম জন্মদিনে। বন্ধুরা বিভিন্ন মোড়ক নিয়ে আসত, কেক কাটা হতো সব মিলিয়ে খুব আনন্দ হতো।’

উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ কণ্ঠশিল্পীর আজ জন্মদিন। বিশেষ দিনটি এবার তিনি কাটাবেন কলকাতায়। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল তিনি সেখানে পৌঁছান। রুনা লায়লা বলেন, ‘এবারের জন্মদিনে চাইলেও আর ঢাকায় থাকতে পারিনি। জন্মদিনে আমি আমার মুরুব্বিদের কাছ থেকে আশীর্বাদ কামনা করছি। সবাই দোয়া করবেন আমি যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি। আরও ভালো ভালো কিছু গান উপহার দিতে পারি। যতোটা দিন বাঁচি সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। কারণ একজন শিল্পীর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনতো সম্মানই।’

এদিকে রুনা লায়লা গেল ১২ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ করদাতার পুরস্কার পেলেন। সেদিন তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছ থেকে ‘সেরা করদাতা’র পুরস্কার গ্রহণ করেন। রুনা লায়লা বলেন, ‘১৯৭৪ সাল থেকে আমি নিয়মিত ট্যাক্স দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাইকে নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য। কারণ এ ট্যাক্সের টাকা দিয়েই দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা হয়।’ রুনা লায়লা সর্বশেষ চট্টগ্রামে একটি স্টেজ শো’তে অংশ নেন গেল সপ্তাহে। তবে আর আগে তিনি ‘আড়ং’-এর ৪০ বছর পূর্তিতেও ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে সংগীত পরিবেশন করেন। এরই মধ্যে রুনা লায়লা একজন সংগীত পরিচালক হিসেবেও নিজের অভিষেক ঘটিয়েছেন। নায়ক, প্রযোজক, পরিচালক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’তে রুনা লায়লার সুরে আঁখি আলমগীর একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত রুনা লায়লা চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার কারণে পেয়েছেন ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭৭ সালে আব্দুল লতিফ বাচ্চু পরিচালিত ‘যাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এর পর তিনি একই সম্মাননায় ভূষিত হন ‘এ্যাকসিডেন্ট’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘দেবদাস’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক’র জন্য। দেবু ভট্টাচার্যের সুরে প্রথম করাচি রেডিওতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রথম রুনা লায়লার কণ্ঠে বাংলা গান শোনা যায়। ‘নোটন নোটন পায়রাগুলো’, ‘আমি নদীর মতো কতো পথ পেরিয়ে’ গান তার কণ্ঠে শোনা যায়। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রুনা লায়লা প্রথম প্লে-ব্যাক করেন ১৯৭০ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে সুবল দাসের সুর সংগীতে। ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে বলো কী হবে’ গানটিতে কণ্ঠ দেন। দেশে আসার পর ১৯৭৬-এ প্রথম প্লে-ব্যাক করেন নূরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘জীবন সাথী’ চলচ্চিত্রে। এর সুর সংগীত করেছিলেন সত্য সাহা। রুনা লায়লার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছিলেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। গুণী এ সংগীতশিল্পী ১৮টি ভাষায় গান গাইতে পারেন যা সত্যিই বিরল।

কালজয়ী গান
১. এই বৃষ্টি ভেজা রাতে
২. যখন থামবে কোলাহল
৩. গানেরই খাতায় স্বরলিপি
৪. শিল্পী আমি তোমাদেরই
৫. সাধের লাউ বানাইলো
৬. বন্ধু তিন দিন তোর
৭. প্রতিদিন তোমায় দেখি
৮. জীবনো আঁধারে পেয়েছি
৯. পান খাইয়া ঠোঁট
১০. বাড়ির মানুষ কয় আমায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ