প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমিটির সদস্য নেই, চলছে রেলের নিয়োগ পরীক্ষা!

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারের শেষ সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চলছে বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা কার্যক্রম। রেলকে আরও আরও গতিশীল করতে ও জনবল সঙ্কট কমাতে এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এতে রেলের বিভিন্ন মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নেই কমিটির সদস্যরাও। সদস্য ছাড়া কীভাবে নাম্বার দেয়া হবে। এমন প্রশ্নে রেলঅঙ্গনে চলছে আলোচনাও।

এদিকে অভিযোগ আছে, সহকারী লোকো মাস্টারসহ (এএলএম) বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই উপস্থিত থাকেন না মৌখিক পরীক্ষায়। উপস্থিত না থাকলেও পরীক্ষা শেষে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী অনুমানের ওপর নির্ভর করে তালিকা করা সিটে নাম্বার বসিয়ে দেন তারা। এক কমিটিতে উপস্থিত না থেকে গোপনে অন্য নিয়োগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সিআরবিতে এএলএম নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় কমিটির ৫ সদস্যের মধ্যে একজন সদস্য উপস্থিত নেই। তিনি হচ্ছেন এএলএম নিয়োগ কমিটির সদস্য ও পশ্চিমাঞ্চলের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা আবু তাহের মজুমদার। তিনি একই সাথে আছেন পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েম্যান নিয়োগের কমিটিসহ আরও কয়েকটি নিয়োগ কমিটিতে।

এডিশনাল সিএমই দপ্তরের বারান্দায় কথা হয় কয়েকজন আবেদনকারীর সাথে। তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে দেখি ভেতরে বসা আছেন দুই-তিনজন কর্মকর্তা। মাঝে মাঝে ৪ জনও দেখা যায়। তবে আমরা জানতে পারলাম, কমিটির এক-দুজন সদস্য উপস্থিত থাকেন না প্রায় সময়। তারা আরও বলেন, এমন যদি হয়, তাহলে মৌখিক পরীক্ষার নাম্বারগুলো পরীক্ষা শেষে কোন এক সময় ইচ্ছা মতো দিবেন? নাকি যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করবেন?।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সকলের উপস্থিত থাকা না থাকার কারণে এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মধ্যে।

কমিটির সদস্য নেই স্বীকার করে এএলএম’র নিয়োগ কমিটির আহ্ববায়ক মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন কারণে মৌখিক পরীক্ষায় কমিটির দু-্একজন সদস্য উপস্থিত না থাকলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এতে অন্যান্য নিয়োগ কমিটির কাজ যেভাবে শেষ হচ্ছে, সেভাবেই কাজ শেষ করবেন বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে জানতে কমিটির সদস্য ও পশ্চিমাঞ্চলের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা আবু তাহের মজুমদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় কমিটির কোনো সদস্য উপস্থিত না থাকলে, পরবর্তীতে মৌখিকের কোনো নাম্বার দিতে পারবেন না। তাছাড়া কমিটির সব সদস্যই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত। তবে যদি কেউ, ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত না থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই অন্যায় বলে জানান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের এএলএম নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত না থেকে আবু তাহের মজুমদার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বসে গোপনে সারছেন ওয়েম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়া। এএলএম নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত না থাকলেও পরীক্ষা শেষে ঢাকা থেকে যে কোনো সময় চট্টগ্রামে এসে পরীক্ষা হয়ে যাওয়া আগের সব খাতায় নিজের ইচ্ছেমতো নাম্বার বসিয়ে দেন বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন উঠেছে, উপস্থিত না হয়ে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের কীভাবে নাম্বার দিবেন এবং দিলেও এভাবে দেয়ার কোনো নিয়ম আছে কিনা? এসব বিষয়ে রেলঅঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত না থেকেও প্রার্থীদের নাম্বার দেয়ার বিষয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে ওয়েম্যান নিয়োগের বিষয়ে আবু তাহের মজুমদার নিজের মতো করে পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয়ার জন্য নানাভাবে কৌশল করছেন। ওয়েম্যানসহ বিভিন্ন নিয়োগ কমিটিতে থেকে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ারও চেষ্টা করছেন তিনি। এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে এবং সরকার ও রেলমন্ত্রীসহ রেলপ্রশাসনকে বির্তকিত করতে একটি চক্র নীরবেই কৌশলে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, এএলএম’র ৪৩টি পদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১ হাজার ৩’শ ৯৫ জন। ৩১ অক্টোবর থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ ১৭ নভেম্বর শেষ হবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ