প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা

মিঠুন মিয়া : নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমও শুরু করেছে নির্বাচন পূর্ব সাংবাদিকতা। দৈনিক পত্রিকাগুলো বেশ আগে থেকেই বের করছে নির্বাচনী খবর সংক্রান্ত বিশেষ পাতা। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো বেশ জোরেসোরে সম্প্রচার করছে নির্বাচনী নানা আয়োজন। সামাজিক মাধ্যমেও চলছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনী সভা-সমাবেশ, জনসংযোগ, তফসিল, মনোনয়ন, জয়ের হিসেব-নিকাশসহ নানা বিষয়ই নজরে আসছে। সবই গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ। গণতন্ত্রের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভীত হচ্ছে গণমাধ্যম। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমে ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যম নির্বাচনী সাংবাদিকতার মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অর্থবহ এবং গ্রহণযোগ্য করে তোলে। কাজেই নির্বাচনী সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।

গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নির্বাচনের জন্য উন্মক্ত এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমের কার্যকারিতা এবং গুরুত্ব অনেকাংশে বেড়ে যায়। নির্বাচনী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে অতীতে নির্বাচনে নানা ধরনের অনিয়ম, কারচুপিসহ অনেক ঘটনাই ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনী সাংবাদিকতার গুরুত্ব আসলে সেখানেই। নির্বাচন সাংবাদিকতা বলতে বোঝায় নির্বাচনকালীন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয় কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা। নির্বাচন পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন উত্তর সাংবাদিকতা হয়ে থাকে। বর্তমানে চলছে নির্বাচন পূর্ব সাংবাদিকতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে নানা মহল বিভিন্ন মতামত আসছে। বর্তমান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্ষমতায় থেকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশ্রগহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়া। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন নির্বাচন আসলে কতোটা শান্তিুপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ হবে? রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের মাঝে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। এই যখন অবস্থা, তখন ভাবতে হবে, গণমাধ্যম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কী ভূমিকা পালন করবে? নির্বাচনে গণমাধ্যমের দায় অনেক বেশি। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশ্রগহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের অনেক করণীয় রয়েছে। এই লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় লিপ্ত হতে হবে। গণমাধ্যম যদি সঠিকভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ হতে বাধ্য। কেননা নির্বাচনে গণমাধ্যম নির্বাচনী সাংবাদিকতার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করে। প্রত্যকের  দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে। নির্বাচনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে। নির্বাচনে গণমাধ্যম অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। ভোটারদের জ্ঞাতব্য বিষয় তথা আইনকানুন ও নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি প্রচার করে প্রার্থী, ভোটার, দল তথা জনগণের বন্ধু এবং পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে করতে হবে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে সাংবাদিকরা পালন করেন প্রভাবসঞ্চারীর ভূমিকা। কাজেই ক্যামেরা নির্ভর এই যুগে ভোট কারচুপি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গণমাধ্যমও অনেক স্বাধীনতা ভোগ করছে। কাজেই গণমাধ্যমের সুবাদে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে বাধ্য।

গণমাধ্যম নানাভাবে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনও গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। গণমাধ্যমকে থেকে প্রাপ্ত খবররে আলোকে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই সাথে নির্বাচন চলাকালে সব গণতান্ত্রিক দেশেই সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে কম বেশি ঝুঁকি থাকে। এসব নিয়ে সতর্ক থাকলে অনেক ঝুঁকি এড়ানো যায়। নির্বাচনী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অবশ্যই পেশাদারিত্বের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

লেখক : শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত