Skip to main content

নির্বাচনকে উৎসবে রাখুন, আতঙ্ক নয়

ড. বদরুল হাসান কচি : জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দিন তারিখও ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন প্রদত্ত তারিখকে সাধুবাদ জানিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। অপরদিকে বহু নাটকীয়তার পর দেশের প্রধানতম বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি সহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও নির্বাচনে এগিয়ে এসেছেন শেষমেশ। তাদের এই সিদ্ধান্তকে  স্বাগত জানিয়েছেন দেশ বিদেশের মানুষ। আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা নিয়েছেন দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ধানম-িতে। আর বিএনপি দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে। এই দুই এলাকাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা অস্বীকারের সুযোগ নেই। এই দেশে ভোট মানেই উৎসব। প্রাথীরা  ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে নিজেদের সমর্থকদের সাথে করে মনোনয়ন ফরম তোলা এবং জমা দেয়ার কাজটি করেছেন। আওয়ামী লীগ থেকে ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। প্রার্থীরা,সমর্থকরা র‌্যালি নিয়ে কার্যালয়ে যাওয়াতে রাস্তায় জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে তা ঠিক, কিন্তু কখনো রাস্তা বন্ধ হয়নি। ধানম-ি ঝিগাতলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দিয়ে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করেছে, কখনো অপ্রীতিকর  কিংবা বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি। অথচ বিএনপি কার্যালয়ের সামনের রাস্তাটি তারা বন্ধ করে দিয়েছিল, ফলে আশেপাশে কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল এলাকায় প্রচ- যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে সচিবালয় এবং বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের মানুষ। এই দুর্ভোগের হয়তো কিছুটা লাগাম টানতে চেয়েছিলেন পুলিশ। বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের রাস্তা না আটকে রেখে শৃঙ্খলার সাথে থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাতেই তারা আক্রোশে ফেটে পড়েন। বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মীদের হাতে অল্প সংখ্যক পুলিশ প্রথম দিকে অনেকটা নাজেহাল হয়েছেন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি। অথচ এটা তো রাষ্ট্রের সম্পদ ছিলো, তাই না? রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে তারা তো প্রকৃতপক্ষে নিজের সম্পদই নষ্ট করলেন; এই গাড়ি তার আমার তথা জনগণের করের টাকাই তো কেনা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, অনেকেই গ্রেফতার  হয়েছে, শাস্তিও হবে তা ঠিক, কিন্তু যদি না শুভবুদ্ধির উদয় হয় তাহলে কোন লাভ নেই; কারণ এরা সুযোগ পেলে অন্য কোথাও, আবারও সম্পদের ক্ষতি করবে। গতবার বিএনপি নির্বাচনে না আসায় অর্ধেক আসনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। তাই দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে একটি উৎসব উৎসব পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি অবরোধ কর্মসূচির নামে দেশব্যাপী যে আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল জনগণ হয়তো তা ভুলতে চেয়েছে। কিন্তু সরূপে ফিরে দুইদিন আগে নয়াপল্টনে দলীয় অফিসের সামনে গাড়ি পুড়িয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা যে নাশকতা করেছে তাতে জনমনে আবারও আতংক দেখা দিয়েছে। অথচ এটি মোটেই কাম্য ছিল না। তাই সব দলকে সতর্ক থাকা উচিত ভোট যেন উৎসবের বিষয় থাকে এবং একই সাথে জন রায় মেনে নেয়ার ধৈর্য ও সহ্য ক্ষমতা দুটোই থাকতে হবে। দয়া করে আতংক ছড়িয়ে জনগণকে রাজনীতি বিমুখ করবেন না। মানুষ যখন রাজনীতি সচেতন থাকে তখন সরকারের ভেতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা স্পষ্ট থাকে। তা নিঃসন্দেহে দেশের জন্য মঙ্গলজনক। আর রাজনীতি মানেই তো দেশের কল্যাণ  চিন্তা। লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক, ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।  

অন্যান্য সংবাদ