প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেসব নেতারা বলেন জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিকারক নয় তারা বোকার স্বর্গে রয়েছেন- ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর

আসিফুজ্জামান পৃথিল: ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন রাজ্যটির গভর্নর জেরি ব্রাউন। এছাড়াও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলবায়ু নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, যেসকল বিশ^নেতারা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিকারক নয় তারা নিজেরা বোকা এবং বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। সিএনএন-এর বিখ্যাত সঞ্চালক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জেরি।

জেরি মনে করেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল এতোটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শীতের প্রাক্কালে বাতাসে এমনিতেই আর্দ্রতা কম থাকে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিকবছরগুলোতে তা আরেও কমে গেছে। শুস্ক বাতাসের কারণে আগুন আরো দ্রুত ছড়াচ্ছে। আর ক্যালিফোর্নিয়ার মাটিতেও প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নেই। বনের গাছপালাও শুকিয়ে গেছে। এ কারণে খুব দ্রুত আগুন ধরছে।

কিছুদিন আগে ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই আগুনের কোন সম্পর্ক নয়। এর পেছনে দায়ী স্থানীয় সরকারের বন অব্যাবস্থাপনা। স্থানীয় প্রশাসন অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এখন থেকে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ আরো কমিয়ে দেবে। এ বিষয়েঢ এক প্রশ্নের জবাবে জেরি ব্রাউন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার বনভূমির অধিকাংশের মালিকই কেন্দ্র সরকার। বন শুকিয়ে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে। আর ট্রাম্প প্রশাসন তো বলেই আসছে জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষতিকর নয়! ট্রাম্প জলবায়ু তহবিলও সঙ্কুচিত করেছেন! তিনি অর্থ জমিয়ে রাখতে ভালোবাসাসেন। তিনি বরাদ্দ কমাতেই পারেন। এছাড়াও বৈশি^ক জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেও পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দাযী করেন জেরি। তিনি বলেন, ‘১০ হাজার বছর পূর্বে ক্যালিফোর্নিয়ার জনসংখ্যা ছিলো ৩ লাখ। এখন এই সংখ্যা ৪ কোটি। মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে কার্বন নিস:রণ, কমছে বনভূমি। যেটুকু টিকে রয়েছে সেগুলিও শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেরাই নিজেদের জীবন বিপর্যস্ত করছি।’

জেরি মনে করেন, শুধু তার রাজ্যই নয়, পুরো বিশ^ই রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে। উদাহরণ হিসেবে তিনি এ বছরের পতুর্গালের দাবানলের কথা বলেন। তিনি মনে করেন এর পরেও যে বিশ^নেতারা এই সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা হয় নিজেরা বোকা, নাহয় অন্যকে বোকা ভাবেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার ক্যালিফোর্নিয়া জ¦লছে, কাল সারা আমেরিকা জ¦লবে। এরপর জ¦লবে ইউরোপ। আমরা কোটি কোটি জলবায়ু শরণার্থীকে আফ্রিকা থেকে ধেঁয়ে আসতে দেখবো। আর তা ৫০ বা ১০০ বছর পরে নয়। ১০-১৫ বা ২০ বছরের মধ্যেই। নিজেদের দূর্ভার্গ্যরে কারণ আমরা নিজেরাই বয়ে আনছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ