প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন বয়কট না করতে ঐক্যফ্রন্টের প্রতি সম্পাদকদের আহবান

সাব্বির আহমেদ : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পত্রিকার সম্পাদকদের পরামর্শ নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার আহবান জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা। সম্পাদকরাও ঐক্যফ্রন্টকে গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে সম্পাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সূত্রপাত হয় ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য দিয়ে।

মতবিনিময় বিকেল তিনটায় শুরু চলে ছয়টা পর্যন্ত। সভা থেকে বেরিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সম্পাদকরা আমাদের নিকট তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষা করা যেমন সরকারের কর্তব্য তেমনি আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের যেসব বিষয়ে বিরত থাকতে হয়, নির্বাচন কিভাবে অবাধ হয় এবং জনগণ সত্যিকার অর্থে যাতে ভোট দিতে পারে- এসব বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা নেওয়া। আলোচনা খুবই মূল্যবান ছিল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সব রকমের সহযোগিতা সম্পাদকদের কাছ থেকে নিয়েছি।

সভায় অংশ নিয়ে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন ক্ষমতায় অথবা বিরোধী দলে গেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবে কিনা?

নাঈমুল ইসলাম খানের বক্তব্য ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলোতে সকল ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠ করে সভার কার্যক্রম শুরু কয়েছে, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশান্তিমূলক আলোচনা হচ্ছে- এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফসল কিনা?

ঐক্যফ্রন্টের কাছে তিনি জানতে চান ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়ে তাদের কোনও ঐক্যবদ্ধ চিন্তা আছে কি না? আর থাকলে তা নির্বাচনের আগে লিখিতভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করবেন কিনা?

সভায় কামাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, আপনারা নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে কি করলে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে?

ক্ষমতায় গেলে ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদীর এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

পরে সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তেজা বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্তকে আমাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকার কথাও বলা হয়েছে। আমরা বলেছি, নির্বাচনে প্রতিকূল অবস্থা থাকবেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে নির্বাচন বয়কটের সুর ঐক্যফ্রন্টের কাছ শোনা যায়। যা সাধারণ মানুষসহ গণমাধ্যমকে ভড়কে দেয়। তাই এসব বক্তব্য পালটে আগামীর বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে থাকার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গণমাধ্যমে কাছে প্রকৃত চিত্র দেখতে চায়। তারা বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনেক ঘাটতি আছে। আমরা বলেছি, ঐক্যফ্রন্ট প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের নিকট যেতে পারে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ অনেকটাই তৈরি হবে। তারা এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছেন। জোটের নেতাকর্মীরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে কাজ করতে পারেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ