Skip to main content

নির্বাচনী হাওয়ার ছোয়া নেই রাজধানীর কাঁচা বাজারে

মতিনুজ্জামান মিটু: বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নির্বাচনে আশার ঘোষণা দেয়াতে রাজনীতির মাঠে ইতিবাচক সুবাতাস বইছে। একে কেন্দ্র করে নানা কার্যক্রমের প্রভাব রয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। তবে এখনও এই হাওয়ার ছোয়া লাগেনি বাজারে। রাজধানীর কাঁচা বাজারগুলোর ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ধারণায় দাম দ্বিগুণ হওয়ায় কথা থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে সবধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১, ১০, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বউবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে। শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে বাজার। অক্টোবরে যখন শীতের নতুন সবজি আসতে শুরু করে তখন দাম বেড়েছিল। যা এখনও কমেনি। আবার গত মাসে তিনদিনের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দাম আরেক দফা বেড়েছিল। ধর্মঘট শেষে দাম কমেছে। তবে চলতি মাসে বাজারের পরিস্থিতি এমন থাকলেও ডিসেম্বরে বাজারে নির্বাচনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই। এসময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে পারে নিত্য দরকারি জিনিসপত্রের দাম। এদিন কেজি প্রতি পাকা টমেটো ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০, মূলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, করলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আঁটি প্রতি কলমি শাক ও লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকায়, লাউ শাক ২০ থেকে ২৫ টাকায়, পালং শাক ১৫ টাকায়, পুঁই শাক ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি সিরাজ মিনিকেট ও মিনিকেট চাল ৬০ টাকা, মসুর ডাল (দেশি) ১০০ টাকা, মসুর ডাল মোটা ৭০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা, ভোজ্যতেল লিটার প্রতি খোলা ৯০ টাকা ও বোতলজাত ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, ভারতীয় রসুনের প্রতি পাল্লা (পাঁচ কেজি) ২৮০ টাকা, দেশি রসুন ২৬০ টাকা, পেঁয়াজ দেশি ৪০ টাকা, ভারতীয় ৩০ টাকা ও আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের জোড়া ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ জোড়াপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, মাছের আকারভেদে প্রতি কেজি ট্যাংরা মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং ৫০০ টাকার মধ্যে, পাবদা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কৈ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ২৭০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম, বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও লেয়ার মুরগি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, প্রশাসনের নজরদারির অভাব বা শিথিলতায় দেশের মাঠ পর্যায়ের বাজারগুলোতে অপরিবর্তিত থাকলেও সবজির দাম বাড়বে রাজধানীতে আসার পর। কারণ ওই সময় নির্বাচন ছাড়া সরকার বা প্রশাসনের নজরদারি থাকবে না। এ সুযোগে বাজারগুলোর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়াবে ব্যাপকহারে।

অন্যান্য সংবাদ