প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি

মোঃ ইউসুফ আলী বাচ্চু: সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে সমতলের আদিবাসীদের জন্য কমিশন গঠন আইনের বাস্তবায়ন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়।

বক্তারা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের সম্মিলিত উদ্যোগে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও এদেশে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সংখ্যা উদ্যেগ থেকে মুক্ত হতে পারছে না। ৯০ পরবর্তী ব্যতিক্রমবাদে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা সংখ্যালঘু জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়ও হাহাকার। অনেকের কাছে উৎসব হয়ে এলেও এদের কাছে আসে শংকা ও উদ্বেগের কারণ হিসেবে। এহেন শঙ্কা ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব সরকার নির্বাচন কমিশন এবং সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের মাধ্যমে নিতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাকে আজকের সংবাদ সম্মেলনকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তারপরও নির্বাচনকালীন সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার জন্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনার কমিশন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানায়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোটকে এবং তাদের প্রতি দেশবাসীর সামনে ব্যক্ত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই আমরা। দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি আশা করি এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের আহ্বান নির্বাচনে ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ব্যবহার মসজিদ মন্দির গীর্জা সকল ধর্মীয় উপসনালয় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রার্থীর পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচনকালে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদের মধ্যে প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছে আশা করছি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। আমরা সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে আহ্বান জানাই এমন কাউকে আপনারা মনোনয়ন দেবেন না যারা ইতিপূর্বে জনপ্রতিনিধি ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থে প্রতি কোনরূপ কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ লিপ্ত ছিলেন বা আছেন। এমন কাউকে প্রার্থী করা হলে তা দেশে নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট দান সম্ভব হবে বলে মনে করছি না। আশা করি রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সুযোগ কাজে লাগাবে। এছাড়া আগামী সংসদে জনসংখ্যা প্রতি সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় তার জন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে সরকারের ক্ষমতায়ন ও সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা স্বার্থ-বান্ধব আইন প্রণয়ন বাস্তবায়ন শিক্ষা ব্যবস্থা দায়মুক্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ধর্মান্ধতা বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দেয়ার আহ্বান জানাই।

আগামী সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার অসাম্প্রদায়িক মুক্ত পার্লামেন্ট চাই। যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নিপীড়কের ভূমিকা পালন করবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদকে লালন বা আশ্রয় প্রশ্রয় দেবে না। গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গ করবে । রাজনীতিকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার সংগ্রামে আমরা অতীতে ছিলাম আছি থাকব কিন্তু তাই বলে প্রায় ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ অধিকার কে বিকিয়ে দিয়ে নয়। কেউ কেউ তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে দ্বিধা করেনি। জনগণরা জনগণের দিক থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজনীতি সমঅধিকার সমমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তাদের দেখতে চাইনি। দেখতে চেয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে। আমরা বলতে চাই পাকিস্তান আমলের মতো রাষ্ট্রীয় সংখ্যালঘু হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ করিনি, সীমাহীন ত্যাগ করিনি’, নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ গণহত্যার শিকার হয়নি, জাতীয় সংহতি জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার তাগিদে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক স্বার্থে আমাদের এই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন আজ বড় বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই দেশের ১২% ভোটারদেরকে পাশ কাটিয়ে কোন রাজনৈতিক দল ও তার জোটের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়। তেমনি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের বিনির্মাণ অসম্ভব কেননা ভোটের রাজনীতিতে তারাই নিয়ামক শক্তি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ