Skip to main content

গণতন্ত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক বিস্তার

এমাজউদ্দীন আহমদ : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সমাজের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক। আর তা করতে হলে কার্যকরী ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের মনোজগতকে নিস্ক্রিয় অবস্থা থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক স্তরে নিয়ে আসতে হবে। আর তাহলেই বোঝা যাবে গণতন্ত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক বিস্তার কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে লাখো-কোটি জনতার জন্য গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থবহ করতে হলে, রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, সংসদ এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোকে শুধু গণতান্ত্রিকভাবে সংগঠিত করাই নয়, গণতন্ত্রের ভিত্তিতেই গড়ে তুলতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে, যেনো জনগণের জনপ্রিয় অংশগ্রহণের কারণে সৃষ্ট সব ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা ও বিড়ম্বনাকে প্রকৃত অর্থে আত্মস্থ করতে পারে। সমাজ বিনির্মাণে স্বতন্ত্র ভূমিকা পালন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোতে শক্তিশালী কাঠামোর পাশাপাশি নৈতিক ভিত্তিও থাকতে হবে। কাঠামোগতভাবে, রাজনৈতিক দলগুলোতে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালা ও সমষ্টিগত কর্মসূচি থাকা উচিৎ। যাতে করে সমাজের বিভিন্ন শক্তি থেকে আসা জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তাদের সমর্থনের ভিত্তি হিসাবে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে পারে। যেখানে এক এবং বহুজনের জন্য বৃহত্তর সুযোগ নিশ্চিত করা যাবে। নৈতিকভাবে, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ‘প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাকে’ প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সমাজের অন্যান্য শক্তিকে প্রসারিত করবে। উভয় ক্ষেত্রেই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসবের ব্যাপক অভাব রয়েছে এবং এটি কাঙ্ক্ষিত মান বা উচ্চতার চাইতে অনেক নিচে আছে। লেখক : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি। মূল ইংরেজি লেখা থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

অন্যান্য সংবাদ