প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গতিহীন প্রকল্পের অর্থে কেনা হচ্ছে ইভিএম

আমাদের সময় : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনায় যেন কোনো ধরনের জটিলতার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রচলিত নিয়মনীতি মেনেই অর্থ বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হতে পারে।

কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ইভিএম কিনতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমনকি ক্রয় কমিটিতেও এ ধরনের কোনো প্রস্তাব পাস হয়নি। এ নিয়ে ইসি ও পরিকল্পনা কমিশনের মধ্যে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। যার কিছু নথিপত্র অর্থ বিভাগেও পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন কর্মসূচির যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি নেই, অর্থ সংস্থানে বেছে নেওয়া হচ্ছে সেসব প্রকল্পকে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতের বরাদ্দ প্রায় ফুরিয়ে যাওয়ায় চাপে আছে অর্থ বিভাগ। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার কোটি টাকা। গত অক্টোবর পর্যন্ত খরচ হয়ে গেছে ১ হাজার ৩৬৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা বরাদ্দের ৬৮ শতাংশ। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে নির্বাচনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ তহবিল থেকে এ ধরনের ব্যয় বহন করা হয়। কিন্তু ওই খাতের বরাদ্দ কম। ফলে অর্থের সংস্থানে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে হচ্ছে সরকারকে। সূত্র আরও জানিয়েছে, সরকার চলতি অর্থবছরে বিশাল অঙ্কের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছে। সেখানে অনেক প্রকল্পের অগ্রগতি নেই। অনগ্রসর সেসব প্রকল্পের টাকায় ইভিএম কেনার পক্ষে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। চলতি সংশোধনী বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (আরএডিপি) সম্পদের আকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওই পুনঃউপযোজনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ সমন্বয়যোগ্য।

এর আগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের একটি প্রকল্প হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘নির্বাচনব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এতে দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয় গত ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এবং ওই প্রকল্পে পুরো অর্থায়নের উৎস ধরা হয় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। কিন্তু এর জন্য বাজেটে কোনো ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়নি। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ‘বিশেষ প্রয়োজনে অর্থ সহায়তা’ খাতে বরাদ্দ থেকে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পরিমাণ অর্থ ইভিএম ক্রয় খাতে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অর্থ বিভাগের অপর একটি সূত্র বলছে, এ খাতে বরাদ্দ থাকা ৫৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, মোট দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে তিন ধাপে এবং চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার মেশিন কেনা হতে পারে। এসব মেশিনের ওয়ারেন্টি ১০ বছর। এগুলো আগামী নির্বাচনে সীমিত আকারে ব্যবহারের জন্যই কেনা হচ্ছে।
এসব মেশিন পরিচালনায় দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ৩ হাজার ১১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। শুধু তা-ই নয়, এ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ইভিএম মেলারও আয়োজন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ