প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খসরু ও শামসুলকে নিয়ে টেনশন নোমান-শাহাদাতের

সমকাল : মনোনয়ন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম বিএনপির দুই কাণ্ডারি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের পাশাপাশি এবার নোমানের আসন চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) থেকেও নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আমীর খসরু। এ জন্য মনোনয়ন ফরমও তুলেছেন তিনি। এতে পাল্টে যাচ্ছে নগরের দুটি আসনকে ঘিরে বিএনপির আঁকা ছক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড় থাকলে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের হিসাব-নিকাশেও পরিবর্তন আসবে। আগের আসন ছেড়ে নোমান এবার চট্টগ্রাম-৯-এ এলে চাপে পড়বেন এ আসনের সম্ভাব্য দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ও শামসুল আলম। এদিকে, পছন্দের আসনে মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনই করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন নোমান।

২০০৮ সালে বিএনপির অংশ নেওয়া সর্বশেষ নির্বাচনে আমীর খসরু প্রার্থী হয়েছিলেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে। তখন নগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য। অন্যদিকে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন আবদুল্লাহ আল নোমান। রাজনীতিতে নোমান সিনিয়র হলেও পদের দিক থেকে আমীর খসরু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার ইচ্ছা সত্য হয়ে উঠলে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়বেন নোমান। তাকে ফিরে যেতে হবে ২০০১ সালের পুরনো আসন কোতোয়ালি-বাকলিয়ায়। ২০০৮ সালে এ আসন ব্যবসায়ী নেতা শামসুল আলমকে ছেড়ে দিয়ে হালিশহর-পাহাড়তলীতে নির্বাচন করেন নোমান।

২০০১ সালে ডা. শাহাদাত হোসেন নগর বিএনপিতে থাকলেও ছিলেন না গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে। কিন্তু এখন নগর বিএনপির সভাপতি তিনি। আগামী ভোটকে টার্গেট করে ১০ বছর ধরে এলাকায় অনেক কাজও করেছেন তিনি। কোনো কারণে নোমান আবারও এ আসনে নির্বাচন করতে চাইলে তা সহজে মেনে নেবেন না ডা. শাহাদাত কিংবা শামসুল আলমের কেউ। উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী নেতা শামসুল আলম ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন এ আসনে। এবারও শাহাদাতের পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তিনি কোতোয়ালি থেকে।

এ প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তার বরাত দিয়ে ব্যক্তিগত সহকারী মো. সেলিম বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে খসরু ভাই বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে নির্বাচন করলেও এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। তার বাড়ি হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে। বন্দর-পতেঙ্গার মতো এখানেও তার পরিবারের স্বতন্ত্র একটি ইমেজ রয়েছে। সীমানা ভাগ হওয়ার আগে এ দুটি আসনের অধিকাংশ এলাকা নিয়েই ছিল তার নির্বাচনী এলাকা। মনোনয়ন পেলে দুটি আসনেই জয়ী হওয়ার বিশ্বাস রয়েছে তার।’

তবে এসব কথা মানতে নারাজ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে তিনি অতীতেও নির্বাচন করেছেন। গত ১০ বছর এ আসনের মানুষের সুখে-দুঃখে রয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে অসুস্থতার কারণে গণসংযোগ ঠিকমতো করতে পারেননি। তার পরও জনপ্রিয়তার কারণে পাতানো সেই নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। পুরনো আসন কোতোয়ালিতে গিয়ে নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি তার এখন আর নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভোটাররা মনে করছেন, মনোনয়ন ফরম বিক্রির আগে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল বিএনপি। হালিশহর ও কোতোয়ালির আসন দুটিতে আওয়ামী লীগের কোন্দলজনিত অবস্থার সুবিধা নিতে পারত বিএনপি। কারণ, হালিশহরের বর্তমান এমপি ডা. আফছারুল আমীনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবারে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের অর্ধডজন প্রার্থী। আবার কোতোয়ালিতে দলীয় দ্বন্দ্বের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে হিসাব করতে হচ্ছে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রত্যাশাকেও। সর্বশেষ নির্বাচনে এ আসনে এমপি হন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু। এতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়। এদিকে, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও কোতোয়ালি আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই প্রার্থীজট দানা বেঁধে উঠেছে আওয়ামী লীগে।

আওয়ামী লীগের সমস্যা এবার দানা বেঁধেছে বিএনপিতেও। মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ডা. শাহাদাত হোসেন বলছেন, কোতোয়ালি-বাকলিয়ার এ আসনে তার জন্ম হয়েছে। এখানকার মানুষের সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নগর বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর এ সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। দলীয় প্রধান সিগন্যাল দিলেই কোতোয়ালি থেকে নির্বাচন করবেন তিনি।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শামসুল আলম জানাচ্ছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। এখানেই তার জন্ম, এখানেই তার বেড়ে ওঠা। আগের নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছিল তাকে। এবার মনোনয়ন পেলে এ আসনে তিনি ধানের শীষকে বিজয় উপহার দেবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ