প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কলার জন্যই এক হাট

ডেস্ক রিপোর্ট : সারি সারি কলার কাদি (ছড়া)। হাটজুড়ে কলা আর কলা। এ যেনো কলার রাজ্য। বিকিকিনিও চলছে সমান তালে। জমজমাট এ কলার হাটের দৃশ্য নওগাঁর মান্দা উপজেলার সুতিহাট বাজারের। নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন এ হাটে কলা নিয়ে আসেন চাষিরা। প্রতিদিন বিকিকিনি চললেও সাপ্তাহিক হাট বসে মঙ্গলবার। এ দিন প্রচুর পরিমাণে কলা ওঠে।

হাটের ইজারাদার কামাল হোসেন জানান, প্রতিদিন কেনা-বেচা চললেও হাটের দিন মঙ্গলবার এখানে প্রচুর কলা ওঠে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা এ হাটে আসেন। এখান থেকে কলা কিনে বড় ব্যবসায়ী ও পাইকারেরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে যান।

গত ২০-২২ বছর ধরে সুতিহাটে কলার হাট বসছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানায়, এই কলার হাট থেকে প্রতি সপ্তাহে ৪০-৫০ ট্রাক কলা ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা প্রতিদিন ভোরে চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভ্যান, নসিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন বাহনে করে কলা নিয়ে বিক্রির জন্য হাটে আসে। বড় ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কলা কিনে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। প্রতিদিন কলার বাজার বসলেও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটবার উপলক্ষে আগের দিন সোমবার সন্ধ্যা থেকে চাষিরা হাটে কলা নিয়ে আসেন। সুতিহাট বাজার গরুহাট মাঠের খোলা জায়গায় বসে এ হাট। মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশের রাস্তার দুই পাশ ঘেঁষেও কলা কেনা-বেচা চলে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হাটে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হাটে কলা বিক্রি হয়। এখানে চিনি চম্পা, মানিক ও আনাজি কলা বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতি কাদি চিনি চম্পা কলার দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। মানিক প্রতি কাদির দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং আনাজি কলার দাম ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা।

ক্রেতারা জানায়, গত এক মাসে কলার দাম কম যাওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছে। এক মাস আগে প্রতি কাদি চিনি চম্পা কলা বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অথচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। অন্যান্য জাতের কলার দামও অর্ধেক কমে গেছে।

মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাঠাকাঠা গ্রামের কৃষক সামসুল ইসলাম চিনি চম্পা কলার কাদি নিয়ে এসেছিলেন ৫০টি। গড়ে ১৩০ টাকা দরে ৫০ কাদি তিনি বিক্রি করেন ৬ হাজার ৫০০ টাকায়।

সামসুল ইসলাম বলেন, কলার যে দাম তাতে কলা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে কোনো লাভই থাকছে না। সামনে শীতের মৌসুম। শীতকালে খেতের কলা আকারে ছোট হয়। মানুষও কলা কম খায়। এখনই যে অবস্থা আগামীতে কলার দাম আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বছর ধরে সুতিহাট থেকে কলা কিনে নিয়ে নওগাঁ ও রাজশাহী শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন তিনি। গাইবান্ধা ও বগুড়ার তুলনায় এ অঞ্চলের কলার চাহিদা বেশি। ব্যবসায় লাভও হয় ভালো। এদিকে সুতিহাট বাজারে জায়গা সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের। গরুর হাটের জায়গায় কলার বাজার বসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। মঙ্গলবার দুপুর থেকে গরুর হাট বসায় সকাল থেকে শুরু হওয়া কলার বাজারের বেচা-কেনা বেলা ১১টার মধ্যেই শেষ করতে হয়।

হাটের ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, কলা বাজারের স্থায়ী জায়গার জন্য গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও স্থায়ী কোন জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য কলা চাষি ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার ওপর কলার হাট বসায় যাতাযাতাকারী অন্যান্য যাত্রী ও ব্যবসায়ীদেরও কষ্ট হয়।

গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দীন বলেন, সুতিহাটে কলার বাজারের জন্য কিছু দিন আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে একটি জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন জায়গাটি এই মাসের মধ্যেই হাটের ইজারাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ