প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী ইশতেহার
জনগণের সামনে ৫ প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছে ঐক্যফ্রন্ট

সাব্বির আহমেদ : ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের কাজ অনেকটাই সেরেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পাঁচ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এ ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। যা শুক্র-শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। বিষয়টি এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একাধিক সদস্য।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ণে ছয় সদস্যের একটি কমিটি হয়েছে। যারা ওই ৫টি বিষয়কে প্রধান্য দিয়ে ইশতেহার তৈরির কাজ করছেন। এ কমিটির প্রধান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। অন্য সদস্যদের মধ্যে বিএনপি থেকে মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরাম থেকে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডি থেকে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী।

কমিটির সদস্য শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমরা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে ইশতেহার তৈরির কাজ করছি। শুক্র-শনিবারের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে। আমরা শুক্রবার ইশতেহার কমিটি আবারও বসবো’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইশতেহার কমিটির এক সদস্য বলেন, সুনির্দিষ্ট ৫টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারের কাজ চলছে। যার প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে ভর্তুকি। পর্যায়ক্রমে দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ ও শ্রমিকদের মজুরি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, নির্ধারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের প্রথম প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- স্থানীয় সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন খরচের সর্বোচ্চ দ্বিগুণ মূল্য স্থির হবে বিক্রয়মূল্য হিসেবে এবং নগরবাসী কৃষিপণ্য পাবেন উৎপাদক সমবায় সমিতির নির্ধারিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২-৩ গুণ অধিক মূল্যে। কৃষকের প্রতি কেজি মূল্য স্থানীয় বিক্রয় দর ৫ টাকা হলে তা নগরবাসী পাবেন ১০-১৫ টাকায়।

প্রয়োজনমাফিক সকল কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে। যাতে কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং ভারত ও পাশের দেশগুলো থেকে কৃষিজাত পণ্যের আমদানি কমে। কৃষকের বৈষম্য দূরীকরণ করাকেই মুখ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ হবে এবং সামরিক বাহিনীর দরে সকল শ্রমিককে রেশন দেয়া হবে। শ্রমিকরা মাসিক মাত্র ২৫০ টাকা প্রিমিয়ামে সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা সুবিধা পাবেন। শ্রমিকরা কেবল ওষুধের মূল্য দেবেন।

তৃতীয় প্রতিশ্রুতি- সারা দেশের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দ্রুত উন্নয়নের নিমিত্তে ‘১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতির’ সুষ্ঠু প্রয়োগ হলে তিন মাসের মধ্যে সকল অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য ন্যূনতম অর্ধেক হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সকল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার দর অর্ধেক কমানো। হৃদরোগের চিকিৎসা খরচও একই হারে কমবে। প্রাথমিক অবস্থায় ঢাকা শহরে নতুন কোনো হৃদরোগের সরকারি হাসপাতাল তৈরি না করে দেশের ৮টি প্রধান শহরে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সর্বত্র ৬ মাসের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়।

চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- দুই বছরের মধ্যে দেশে ৫ লাখ গ্রাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে। সকল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর তিন মাস বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা দেয়া হবে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে। বয়োবৃদ্ধরা বাস ও ট্রেনে ভ্রমণ সুবিধা পাবেন এবং শিক্ষিত বয়োবৃদ্ধদের জন্য অবৈতনিক কর্মসংস্থান হবে।

পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- দুই বছরের মধ্যে প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও টেক্সট বই প্রকাশনা, গণপরিবহন, নারী উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থাপনা ৮টি প্রদেশ বা ১৭টি স্টেটভিত্তিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। বিচারপতিদের বার্ষিক ছুটি ৪ সপ্তাহে সীমিতকরণ এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে মামলার রায় চূড়ান্ত করা হবে।

সংবিধানের সংস্কার করা হবে। গণভোট, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। আলাদা সাংবিধানিক কোর্ট স্থাপন করা হবে প্রত্যেক প্রদেশ বা স্টেটে।

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইশতেহারে বেশ ভিন্নতা আনতে চায়। গণমানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ইশতেহার হচ্ছে। কাজ প্রায় চূড়ান্ত। তবে আরও দু’য়েকটি বৈঠক করে তা চূড়ান্ত করা হবে। ক্ষমতায় গেলে ওসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে মাথায় রেখেই চলছে ইশতেহার তৈরির কাজ। প্রণয়ন কমিটির সকলের সায় নিয়েই সম্বলিতভাবে ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ