Skip to main content

মহাজোটের শরীক দলগুলোকে আসন ছাড়তে সতর্ক আওয়ামী লীগ!

আসাদুজ্জামান সম্রাট : মহাজোটের শরীক অন্য দলগুলোর জন্য আওয়ামী লীগের আসন বণ্টনের বিষয়ে শিগগিরই সুরাহা হচ্ছে না। আসন বণ্টনের বিষয়টি শেষ মুহুর্তে ফয়সালা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জোটের শরীক দলগুলো চাইছে দু’একদিনের মধ্যেই তাদের জন্য ছেড়ে দেয়া আসনগুলো সম্পর্কে পরিস্কার ঘোষণা আসুক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়ে শেষ মুহুর্তে সমঝোতা হওয়ায় আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেয়া আসনগুলোতে মহাজোটের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছে। এবার আগাম ঘোষণা দেয়া হলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যাবে বলে মনে করেন মহাজোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার আগেই এর সুরাহা করা উচিত। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এ প্রতিবেদককে বলেছেন, শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এ নিয়ে দরকষাকষি হতে পারে। নির্বাচনী ফলাফল যাতে ভালো হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আসন বণ্টন করা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনই বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ২/১ দিনের মধ্যেই আমরা পরিস্কার হবে এ সংক্রান্ত মিটিং কবে হবে। মহাজোটের প্রধান শরীক আওয়ামী লীগ এবার জোটের জন্য আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে কৃচ্ছতা সাধণের নীতি নিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মহাজোটের শরীকদের জন্য ছেড়ে দেয়া অনেক আসনেই এবার ছাড় দিতে পারবে না। প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের মতে, সে সময়ের পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতি এক নয়। বিজয়ী হতে পারেন এমন প্রার্থীর জন্য আসন ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিক্রি এবং তাদেরকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। পরে মহাজোটের শরীক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেয়া আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রত্যাহার করলেও মহাজোটের শরীকরা মাঠে থেকে গিয়েছিল। এমন কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিল। বরিশাল-৩ আসনসহ অনেক আসনেই জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পাটি ও জাসদের প্রার্থীরা মহাজোটের সিদ্ধান্ত না মেনে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ প্রতিবেদকে বলেন, আগামী ২৫/২৬ নভেম্বরের আগে জোটগত প্রার্থী ঘোষণার সুযোগ কম। আগে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। পরে মহাজোটকে ছেড়ে দেয়া আসন থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এ নিয়ে জটিলতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন তিনি। এদিকে মহাজোটকে আসন ছেড়ে দেয়া নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নেবে আওয়ামী লীগ। মহাজোটের শরীক দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না থাকায় তাদের জন্য আসন ছাড়া না-ও হতে পারে। মহাজোটের শরীক দলগুলোর কেউ কেউ ইতিমধ্যোই মনোনয়ন বাণিজ্যে নেমেছেন। তরিকত ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, গত নির্বাচনে তাদের জন্য ছেড়ে দেয়া লক্ষীপুর-১ আসনে তরিকত ফেডারেশন থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢালছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। আসন বণ্টণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় মাথায় রেখেই এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ।

অন্যান্য সংবাদ