প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈশ্বিক গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে আইসক্রিমের বাজার

শোভন দত্ত : দেশে প্রতি বছর ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে আইসক্রিমের বাজার। সম্প্রসারমাণ বাজারের সুবাদে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আইসক্রিমের অবদান বৈশ্বিক গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে। ইউরোমনিটরের তথ্য তে, বৈশ্বিক জিডিপির দশমিক শূন্য ৫৩ শতাংশ আসে আইসক্রিম থেকে। আর বাংলাদেশে জিডিপিতে এ খাতের অবদান দশমিক ৬৪ শতাংশ।

গত তিন বছরে আইসক্রিম শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ২৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো। পুরনোদের পাশাপাশি নতুন বেশকিছু প্রতিষ্ঠানও বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে আইসক্রিমের বাজার দখলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

দেশের আইসক্রিম বাজারের বর্তমান আকারের সম্পর্কে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি লংকাবাংলা, ইবিএল সিকিউরিটিজ ও দেশের আইসক্রিম শিল্প নিয়ে করা বেশকিছু গবেষণা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে দেশে বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের আইসক্রিমের বাজার রয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার।

এর বাইরে নন-ব্র্যান্ডেড আইসক্রিমেরও বড় বাজার রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড, হোটেলকেন্দ্রিক আমদানিকৃত আইসক্রিমের বাজারও খুব একটা ছোট নয়। ফলে সব মিলিয়ে আইসক্রিমের বাজারের আকার ২ হাজার কোটি টাকার কম হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৬৪ সালের আগে দেশে আইসক্রিমের বাজারে কোনো ব্র্যান্ড ছিল না। সে বছরই কে রহমান অ্যান্ড কোম্পানির উদ্যোগে চট্টগ্রামে অবস্থিত কোকা-কোলার বোতলজাত কারখানার অভ্যন্তরে যাত্রা হয় ইগলুর। পরের বছরই ঢাকায় তাদের প্রথম আইসক্রিম পার্লার চালু করে ইগলু।

আইসক্রিমের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হচ্ছে আবদুল মোনেম লিমিটেডের ইগলু। এক দশক আগে দেশের আইসক্রিমের বাজারের ৭০ শতাংশ ছিল ইগলুর। কিন্তু প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাজার হারিয়ে ২০১৫ সালে এর মার্কেট শেয়ার ৩৬ শতাংশে নেমে আসে।

তবে তিন বছর ধরেই উচ্চপ্রবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে আইসক্রিমের বাজারের ৪৭ শতাংশ ইগলুর দখলে। মার্কেট শেয়ার কমলেও আইসক্রিমের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি বিক্রিও বেড়েছে তাদের। ইগলু বিক্রীত পণ্যের মধ্যে ভ্যানিলা ফ্লেভারের কাপ ও কোন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

মোট বিক্রির ২০ শতাংশ আসে এ দুই পণ্য থেকে। তাছাড়া সাত-আটটি পণ্য থেকেই আসে মোট বিক্রির ৭০ শতাংশ। পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে কফি, ক্ষীর, সরমলাই, রসমালাই ও হরলিকস ফ্লেভারের আইসক্রিম বাজারে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইসক্রিমের বাজারে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ইগলুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিএম কামরুল হাসান বলেন, প্রতি বছরই এ খাতে ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এর মধ্যে গত তিন বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বাজার সম্প্রসারণের জন্য প্রতিযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

এতে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ কাজ করে। বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যবসা বাড়াতে গত দুই বছরে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ইগলু। গত পাঁচ বছরে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। আইসক্রিমের বাজারের বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি বিবেচনায় আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে ২৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানান তিনি।

আইসক্রিমের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা আইসক্রিম ইন্ডাস্ট্রিজের ব্র্যান্ড পোলার। বর্তমানে এর মার্কেট শেয়ার ৩৭ শতাংশ। বাজারে রোবাস্তো, ক্রাঞ্চি, রকস, দই, ক্ষীর, গুগলি, কার্নিভাল নামে বিভিন্ন স্বাদ ও ফ্লেভারের আইসক্রিম বাজারজাত করছে পোলার।

৯ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাজারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কোয়ালিটি। তাদের অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য হচ্ছে রয়েল ম্যাগনাম, ললি, ইউ অ্যান্ড মি, ক্ষীরসা, ক্যারামলো, নলেন গুড় ও বাটারস্কচ।

গোল্ডেন হারভেস্ট আইসক্রিমের ব্র্যান্ড ব্লুপের দখলে রয়েছে ৯ শতাংশ বাজার। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সে বছর তারা ৮৭ কোটি টাকার আইসক্রিম বিক্রি করেছিল। ব্লুপের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হচ্ছে স্কুপ, সরমালাই, ম্যাঙ্গো, মালাই, মারিয়া, ম্যাজিক, চকো পাপা, লেমন, থাং, এক্সোটিক ভ্যানিলা ইত্যাদি।

ক্রমবর্ধমান আইসক্রিমের বাজার ধরতে সম্প্রতি ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইসক্রিমের বাজারে কাজী ফার্মসের ব্র্যান্ড বেলিসিমোর অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য হচ্ছে সুপ্রিমো বিয়ানকো, ন্যানো, ম্যাঙ্গো, বিস্কুটো, পারফেটো, রিপল, হিনে আমন্ড ও ক্ল্যাসিক ভ্যানিলা।

বিভিন্ন গবেষণা ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতে, আইসক্রিমের ব্যবসা হচ্ছে মৌসুমভিত্তিক। এর মধ্যে এপ্রিল, মে ও জুন এ তিন মাস আইসক্রিমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এর পরই সবচেয়ে বেশি আইসক্রিম বিক্রি হয় মার্চ, জুলাই ও আগস্টে। ফেব্রুয়ারি, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এ চার মাস অফ পিক মৌসুম।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতকালের কারণে আইসক্রিম তেমন একটা বিক্রি হয় না। সাত থেকে ১৬ বছর বয়সী ভোক্তাদের মধ্যে আইসক্রিম বেশি জনপ্রিয়। সূত্র : বনিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ