Skip to main content

খুলনায় বিএনপির স্মারকলিপি প্রদান

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুলনায় অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য ৯টি সুপারিশ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুজিবর রহমানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা ৯টি সুপারিশসমূহ হলো- ১) সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পূর্বে কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। ২) লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড সকলের সমান সুযোগ দিতে হবে। ৩) বিগত মেয়র নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে সহায়তাকারীদের নির্বাচনের বাহিরে রেখে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের রদবদল। ৪) দল নিরোপেক্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ খুলনা মহানগরীর বাহিরে বিশেষ করে দাকোপ, বটিয়াঘাটা কোন কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নিয়োগ না দেওয়া। বিশেষ একটি ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়োগ না দেওয়া। ৫) আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নির্বাচন কমিশনারের অধীনে রাখা। ৬)নির্বাচনের তিন সপ্তাহ পূর্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও টহলের ব্যবস্থা করা এবং সন্ত্রাসী গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা। ৭) খুলনার ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার না করা। ৮)নির্বাচনী আচারণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৯) কালো টাকা দিয়ে ভোটকে প্রভাবিত না করতে পারে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়াও স্বারকলিপিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে জাতীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও দলীয় সরকারের অধীনে ১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে সিংহভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। সেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়া ও ৯৫% ভোটারের অনুপস্থিতি এবং অর্ধেকের বেশী আসনে প্রার্থী না থাকায় ভোট ডাকাতিয় ভোটার এবং প্রার্থী শূন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। দেশে বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত এই নির্বাচন দেশের ভাবমূর্তীকে বিনষ্ট করেছে। গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে। দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দল সমূহ চায় একটি অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এই দাবিকে সামনে রেখে জাতীয় প্রয়োজনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও ৭ দফা ঘোষণা এবং জাতীয় সংলাপ অর্থবহ না হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। গত ৭ মাস পূর্বে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের ভোট ডাকাতি নির্বাচনে ক্ষত এখনও শুকায়নি। ভোট ডাকাতির সেই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হয়েছে। সীমাহীন নৈরাজ্য, বলপ্রয়োগ, আইন অমান্য, প্রশাসন যন্ত্রের অসৎ ব্যবহার ও সর্বশেষ ভোটের আগের রাত থেকেই ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সীল মারা। নির্বাচনের পূর্বের দিন খুলনা বিভাগে বিভিন্ন জেলা থেকে সরকার দলীয় উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে হাজার হাজার ভোট ডাকাতদের খুলনার হোটেল রেস্তোরায় ও কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান এবং সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে ফটকে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলের উপর আক্রমণ এবং ভোটারদের ফিরিয়ে দেওয়া গণসিল মারার ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। স্বারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, ফকরুল আলম, শেখ আমজাদ হোসেন, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, ইউসুফ হারুন মজনু, সাইফুল ইসলাম, কাজী মাহমুদ আলী, অধ্যাপক শফিকুল আলম প্রমুখ।

অন্যান্য সংবাদ