প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিরাজের ঘুর্ণীতে কুপোকাত জিম্বাবুয়ে
সিরিজ ড্র করলো বাংলাদেশ

এল আর বাদল : জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ হেরে যায় ১৫১ রানে। ওই হারের নিষ্ঠুর প্রতিশোধ নিলো বাংলাদেশের ওরা ১১ জন। মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ২১৮ রানের বড় ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ ড্র করে লাল-সবুজের দেশ।

জয়ের এই ব্যবধান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর, এর আগে ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েকে ২২৬ রানে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬টি, পরাজয় ৭টিতে। দুই দলের মধ্যে তিনটি টেস্ট ড্র হয়েছে।

সিলেট টেস্ট হারের পর মাহমুদউল্লাহবাহিনী যেনো জীবনবাজি রেখেই নেমেছিলো মিরপুর মাঠে। পণ করে নামলে কী-না হয়, সেটা প্রমাণ হয়ে গেলো জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায়। কেন সিলেট টেস্ট হারলো, সেই বিশ্লেষণ টাইগার দলনায়কের মুখে নেই। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে সিলেটে প্রতিজ্ঞার অভাব ছিলো, মিরপুর মাঠে সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই মাঠে নেমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদরা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য ৪৪৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে টেস্টের পঞ্চম দিনে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। তাদের জিততে হলে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের টার্গেট তাড়া করে জয়ের কৃতিত্ব ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু কিসের কী? এর ধারেকাছেও যেতে পারল না জিম্বাবুয়ানরা। মিরাজ স্পিনে ২২৪ রানেই গুটিয়ে গেল তারা।

আগের দিনের ২ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিন ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর ৪ এবং শন উইলিয়ামস ২ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। তবে খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি। উইলিয়ামসকে সরাসরি বোল্ড করে ড্রেসিং রুমের পথ ধরান মুস্তাফিজুর রহমান। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সিকান্দার রাজাও। তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এ অবস্থায় চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

এ পরিস্থিতিতে ক্রিজে আসেন পিটার মুর। এসে ব্রেন্ডন টেইলরকে দারুণ সঙ্গ দেন তিনি। একপর্যায়ে জমে ওঠে তাদের জুটি। দারুণ মেলবন্ধন গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। কি স্পিন, কি পেস-কোনো কিছু দিয়েই আটকানো যাচ্ছিল না ওদের। পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাতে থাকেন তারা।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ভয়ংকর জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শর্ট লেগে ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি করে মুরকে ফেরান তিনি। এতে ভাঙে টেইলর-মুরের ৬৬ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙায় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে স্বাগতিকরা। এরপর চাকাভা রান আউট হওয়ার পর মাভুতা ও কাইল জার্ভি মিরাজের শিকার হন। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।