প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বুর্জোয়াদের রাজনীতি সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে’

রবিন আকরাম : বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুর্জোয়ারাই রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে অপ্রতিহত ভাবে কর্তৃত্ব করছে। তারাই বীর, তারাই আদর্শ। ফলে এটা খুবই স্বাভাবিক যে বুর্জোয়াদের নোংরা ও হাস্যকর রাজনীতিই মূলধারা হিসেবে বিরাজ করবে, এবং সমাজতন্ত্রীরা কোণঠাসা হয়ে থাকবে। কিন্তু বুর্জোয়াদের রাজনীতি মানুষের মুক্তি আনবে না, সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে, এখন যেমন যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টারের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

সমাজের জন্য সমাজতন্ত্র অনিবার্য মত দিয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সমাজবদলের রাজনীতি যে মূলধারা হতে পারছে না, সেটা পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্যের কারণেই। পুঁজিবাদের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের ব্যবধানটা খুবই স্পষ্ট। পুঁজিবাদ বিশ্বাস করে ব্যক্তিমালিকানায়, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা চায় সামাজিক মালিকানার। ঐতিহাসিকভাবে ব্যক্তি মালিকানার যুগ এখন শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে, ইতিহাস এবার মোড় বদল করবে সমাজতন্ত্রের দিকে। এটা অনিবার্য। নইলে আমাদের এই বিশ্ব মনুষ্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। পৃথিবীব্যাপী এখন ব্যক্তিমালিকানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জেগেছে ও লড়াই চলছে। শতকরা নিরানব্বই জন একজনের শাসন-শোষণ আর মানতে রাজি নয়। কিন্তু পুঁজিবাদ তবু টিকে আছে। কারণ তার আছে ছল, বল ও কৌশল। টাকাওয়ালারাই এখানে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনীতি চলে গেছে টাকার অধীনে। যাদেরকে বুর্জোয়া বলা হয় সেই ধনীরাই রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। গণমাধ্যম এদের মালিকানাধীন। সমাজতন্ত্রের পক্ষে যাঁরা দাঁড়ান তাঁরা রাষ্ট্রের হাতে নির্যাতিত হন, গণমাধ্যম তাদের কাজ ও আদর্শের প্রচার করে না। ওদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানুষকে জীবিকার সন্ধান ও আয়োজনে সর্বক্ষণ ব্যস্ত রাখে, রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের পরিসরকে যত ভাবে পারে সঙ্কুচিত করে দেয়।

তিনি বলেন, পুঁজিবাদ যে কতটা বিবেকহীন ও নির্মম হতে পারে তার নিদর্শন হচ্ছে বর্তমান চীন। সমাজতান্ত্রিক চীন একদিন তার দেশের মানুষকে মুক্ত করেছিল। আগের কালে চীন ঝিমাতো, সমাজতন্ত্র এসে তাকে কেবল জাগায়নি, হাসিতে আনন্দে মুখর করে তুলেছিল। চীন বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনকে অনুপ্রেরণা দিত, সমর্থন যোগাতো, সংশোধনবাদী সোভিয়েত নেতৃত্বের সমালোচনা করতো। পুঁজিবাদী উন্নতির আদর্শে দীক্ষিত হয়ে সেই চীন এখন নিজের দেশে মানুষকে উৎপাটিত করছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে দিয়েছে, জ্বালানি পুড়িয়ে ধরিত্রীকে উত্তপ্ত ও বিপন্ন করায় মনোযোগ দিয়েছে, দুর্নীতির দায়ে বড় বড় নেতাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হচ্ছে, এবং জাতীয় স্বার্থে পৃথিবীকে দখল করে ফেলতে চাইছে। মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে; চীন বলছে এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, এ ব্যাপারে বিশ্বের কিছু করার নেই। অর্থাৎ গণহত্যা বৈধ, সেটা কোনো অপরাধ নয়। চীনের পুঁজিবাদী লক্ষণটা একাত্তরেও টের পাওয়া গেছে। একাত্তরে বাংলাদেশে নৃশংস গণহত্যা চলছিল, চীন বলেছিল সেটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।”

‘এটা একটা দৃষ্টান্ত। পুঁজিবাদীদের এটাই স্বভাব। বাংলাদেশের রাজনীতিও পুঁজিবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তথাকথিত বুর্জোয়ারাই রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে অপ্রতিহত ভাবে কর্তৃত্ব করছে। তারাই বীর, তারাই আদর্শ। ফলে এটা খুবই স্বাভাবিক যে বুর্জোয়াদের নোংরা ও হাস্যকর রাজনীতিই মূলধারা হিসেবে বিরাজ করবে, এবং সমাজতন্ত্রীরা কোণঠাসা হয়ে থাকবে। কিন্তু বুর্জোয়াদের রাজনীতি মানুষের মুক্তি আনবে না, সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে, এখন যেমন যাচ্ছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ