Skip to main content

#MeToo: যৌন নিপীড়ক ছিলেন সেলিম আল দীন!

সেলিম আল দীন। নিরন্তর সৃষ্টিশীলতায় মুখর সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা নাটকের নব্যধারার প্রবর্তক, নাট্যমঞ্চের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র! এবার তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে! সেটি তুলেছেন মুশফিকা লাইজু। আজ বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এই অভিযোগ করেন তিনি। মুশফিকা লাইজুর স্ট্যাটাসটি  তুলে ধরা হলো- তি‌নি ছি‌লেন বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক, নাট্যগুরু, আশ্চার্য। এখনও প্র‌তি বছর তার ছ‌বি‌তে মালা ঝুলি‌য়ে তা‌কে মহান আখ্যা দেয় হয়। যেন বিষয়টা এমন মানুষ কোনরক‌মে তার জী‌বিত অবস্থা কৃত পাপ অনাচার ঢে‌কেঢ‌ুকে ম‌রে গে‌লেই মহান হ‌য়ে যায়। দিন কতক ধ‌রে আ‌মি যখন ভাব‌ছিলাম যে আ‌মিও আমার প্র‌তি হওয়া ৩১ বছর আ‌গে যৌনহয়রা‌নির কথা #me_too তে লিখ‌বো অ‌নে‌কেই আমা‌কে পরামর্শ দি‌য়ে‌ছে, না লিখ‌তে কারণ তি‌নি মারা গি‌য়ে‌ছেন, তা‌কে যেন ক্ষমা ক‌রে দেই, এখন আর লি‌খে ‌কি হ‌বে। আ‌মি থামলাম এবং ভাবলাম ও সিদ্ধান্তে পৌছালাম একজন নিযার্তনকারীকে মৃত্যু এ‌সে মহান ক‌রে দি‌তে পা‌রে না। আর আজ য‌দি আ‌মি না লি‌খি ত‌বে আগামী পৃ‌থিবী আজীবন তা‌কে মহান বা‌নি‌য়ে রাখ‌বে কি জা‌নি আমার কন্যাও হয়‌তো তা‌কে এক‌দিন শ্রদ্ধাভ‌রে মালা দি‌তে যা‌বে মহান আচার্য্য হিসা‌বে! তো এমন একজন শিক্ষ‌কের চ‌রিত্র নি‌য়ে প্রশ্ন আমার চিন্তারও অ‌তীত। শুধু ম‌নে ম‌নে ভিত‌রের আগুণটা জ্বা‌লি‌য়ে রে‌খেছিলাম, সম‌য়ের অ‌পেক্ষা ক‌রে‌ছিলাম জীবনকে একটু গু‌ছি‌য়ে ‌নি‌য়ে জনসন্মু‌খে একটা থাপ্পড় মে‌রে বল‌বো এই আ‌মি সে‌দি‌নের শোধ নিলাম। কিন্তু হায় এরই ম‌ধ্যে মরণ এ‌সে তা‌কে রেহাই দি‌য়ে গেল। ত‌বে আ‌মি থে‌মে থা‌কি‌নি, এর পরবর্তীতে উনার যে ছাত্রছাত্রী ও ভক্তকে পে‌য়ে‌ছি, তা‌কেই ব‌লে‌ছি মাথা উঁচু ক‌রে যে আ‌মিই সেই মে‌য়ে, যে কিনা যৌন হয়রানীর প্র‌তিবা‌দে নীর‌বে বিশ্ব‌বিদ্যালয় ছে‌ড়ে দি‌য়ে‌ছি। বড়ই বেদনা যে সেই সময় ঐ বিভা‌গের শিক্ষক, ছাত্র আ‌রো অ‌নে‌কে এই ঘটনা জান‌তেন। কিন্তু কেউ আমার পা‌শে এ‌সে দাঁড়ায়নি। ধিক সেই সব জ্ঞানপাপী‌দের, যারা মে‌নেই নি‌য়ে‌ছিল উনার একটু মদ ও নারী আস‌ক্তি আ‌ছে, সেটা তেমন কোন ব্যাপার নয়, এ মে‌নে নি‌য়েই উ‌নি মহান নাট্যকার, জাতীয় আচার্য্য! ত‌বে ঐ ঘটনা আমার জীবন দর্শনকে পুরোপু‌রি বদ‌লে দি‌য়ে‌ছে। আজ আ‌মি একজন নারীবান্ধব মানুষ, সকল বাধা অ‌তিক্রম ক‌রে আ‌মি পোড় খাওয়া জীবন যু‌দ্ধে হে‌রে যাওয়া নারী‌দের পা‌শে আমার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নি‌য়ে দাঁড়াই, এমনকি আ‌মি আমার পেশার পূর্ব প‌রিকল্পনা বদ‌লে পেশা হি‌সে‌বে বে‌ছে নি‌য়ে‌ছি, নারী অ‌ধিকারকর্মী হিসা‌বে আমি লিঙ্গবৈষম্য বিলু‌প্তি নি‌য়ে কাজ ক‌রি। সেদিন য‌দি ঐ শিক্ষকরুপী হায়েনা তার ক্ষুদ্র-তুচ্ছ-যৌনক্ষুধা ত্যাগ ক‌রে কন্যাসম ছাত্রী‌কে হয়রানী না কর‌তো, ত‌বে আজ হয়‌তো আমার জীবন অন্যরকম হতো, হ‌তে পারতাম একজন প্র‌তিভাময়ী অ‌ভিনয় শিল্পী, একজন র্নিমাতা, অথবা সৃজনশীল প্রজ্ঞাবান শিক্ষক। শুধুমাত্র ঐ একটা অসুন্দর পাশ‌বিক সন্ধ্যা আমার জীবনকে এ‌নে দি‌য়ে‌ছে বিভৎস অসংখ্য দিন রাত মাস বছর। ৩১ বছর ধ‌রে আ‌মি জ্বলন্ত আগুন বু‌কে নি‌য়ে ব‌সে আ‌ছি। ভে‌বে‌ছিলাম জনসভা ক‌রে মাই‌কে সবাইকে আমার জীব‌নের গ্লানির কথা বল‌বো। আ‌মার ম‌নে হয় আ‌মি আজও হয়‌তো আজ‌কের এই দিনটির জন্য বে‌চেঁ ছিলাম যখন #Me_too মুভ‌মে‌ন্টের মাধ্য‌মে জা‌নি‌য়ে দি‌তে পে‌রেছি আমার প্র‌তি হওয়া সেই অন্যা‌য়ের কথা। আমার কন্যাও আগামী দি‌নের নৃত্যশিল্পী হ‌য়ে উঠ‌ছে, হয়‌তো পড়‌তে যা‌বে বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে। আ‌মি আশা ক‌রি তা‌কে কোন শিক্ষ‌কের অথবা ভদ্র‌বে‌শী পুরু‌ষের যৌন লালসার শিকার হ‌তে হ‌বে না। আ‌মি আমার বা‌কি জীবন প্রানপ‌ণে এই পৃথিবীর জঞ্জাল সরা‌তে সোচ্চার থাক‌বো, আ‌মি আমার কন্যা‌র এবং সকল আগামী দি‌নের কন্যা‌দের জন্য যৌন হয়রানীমু্ক্ত পৃ‌থিবী রে‌খে যে‌তে চাই। আর অনু‌রোধ সেই সুধী সমা‌জের কা‌ছে; একজন কুৎ‌সিত ‌নিকৃষ্ট মানুষ যেন আপনা‌দের কা‌ছে থে‌কে বর‌ন্যের বরমাল্য না পায়। বিঃদ্রঃ আ‌মি কোন বিচার চাই না, শুধু এইটুকু প্রত্যাশা ক‌রি যি‌নি বা যারা এখনও এই ধর‌নের নিপীড়‌নের সা‌থে যুক্ত আ‌ছেন, তা‌দের বল‌ছি, দিন বদ‌লে গে‌ছে। আগামী পৃাথবীর কা‌ছে সব পা‌পের, অন্যা‌য়ের হিসাব বু‌ঝি‌য়ে দি‌তে হ‌বে। ফেইসবুক থেকে সম্পাদিত

অন্যান্য সংবাদ