প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢামেকের ২২ গুণ বেশি দামে চিকিৎসা উপকরণ কেনে পঙ্গু হাসপাতাল

বাংলা ট্রিবিউন : পঙ্গু হাসপাতালসার্জিক্যাল আইটেম, কেমিক্যাল রি-এজেন্টসহ পাঁচ শ’রও বেশি ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটায় দুর্নীতি হচ্ছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র-নিটোরে। ৩ শ’ ৭২ ধরনের সার্জিক্যাল আইটেম, ১শ’ ৩৪ ধরনের কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, গজ-ব্যান্ডেজের ১৩ ধরনের আইটেমসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটা ঘিরে হচ্ছে এই দুর্নীতি। নিটোর পরিচিতি পঙ্গু হাসপাতাল নামে। ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের দাম যত বেশি, অনিয়ম, দুর্নীতিও তত বেশি। এমন অনেক উপকরণ আছে, যা অন্য হাসপাতাল কেনে মাত্র ২শ’ ২৯ টাকায়, আর সেটা পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ২২ দশমিক ৭ গুণ বেশি দামে, ৫ হাজার ২শ’ টাকায়। বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে এ তথ্য মিলছে।

পঙ্গু হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-ডিএমসিএইচ’র ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটা পর্যালোচনা :

চিকিৎসার জন্য প্রতি পিস নন অ্যাবজরবেবল সুইচার মাত্র ২শ’ ২৯ টাকায় কেনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-ডিএমসিএইচ। অথচ একই উপকরণ কিনতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র-নিটোর’র অনুমোদিত দাম প্রায় ২২ দশমিক ৭ গুণ বেশি, ৫ হাজার ২শ’ টাকা। ডিএমসিএইচ প্রতি পিস আইভি ক্যানোলা কেনে ৯ টাকা ৫৮ পয়সায়। পঙ্গু হাসপাতাল এই একই চিকিৎসা উপকরণ কেনে ৩ দশমিক ৬৯ গুণ বেশি দামে, ৩৫ টাকা ৪ পয়সা দিয়ে। প্রতি পিস সিরিঞ্জ কিনতে ডিএমসিএইচ’র খরচ হয় ৬ টাকা ৩১ পয়সা। আর পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ১ দশমিক ৩২ গুণ বেশি দামে, ৮ টাকা ৩৯ পয়সায়। প্রতি ডজন অ্যাবজরবেবল সুইচার কিনতে ডিএমসিএইচ’র খরচ হয় ১ হাজার ৫শ’ ৪০ টাকা। পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ৪ দশমিক ২৮ গুণ বেশি দামে, ৬ হাজার ৬শ’ টাকায়।

পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সিন্ডিকেট ছয়জনের

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের দুর্নীতির মামলায় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা এক ঠিকাদার-ব্যবসায়ীসহ ছয়জনের ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণ করে পঙ্গু হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটা। সিন্ডিকেটে রয়েছেন চার ঠিকাদার ও পঙ্গু হাসপাতালের দুই কর্মকর্তা। ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের দরপত্র আহ্বান, বণ্টন, দাম নির্ধারণ-সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ সবকিছুতেই। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করা পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারোরই ‘ড্রাগ লাইসেন্স’ নেই। তারপরও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের সঙ্গে ওষুধ সরবরাহের ঠিকাদারিও পাচ্ছে তারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই ব্যক্তি। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বলছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ীই সবকিছু সরবরাহ করা হয়। আর হাসপাতালের শীর্ষ কর্তা বলছেন, ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটায় অন্য হাসপাতালগুলোর সঙ্গে পঙ্গু হাসপাতালের দামের ফারাকের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

দুদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা

দুদক ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট পঙ্গু হাসপাতালে ‘সিন্ডিকেট’র দৌরাত্ম্যের বিষয়টি অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত করে। ওই বছরেরই ১৬ নভেম্বর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ও তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠিও দেয় দুদকের উপ-সচিব মাঈনউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পঙ্গু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়নি। দুদককে ফিরতি চিঠিও দেননি স্বাস্থ্য সচিব।

পঙ্গু হাসপাতাল ও ডিএমসিএইচ’র কেনাকাটা পর্যালোচনা

ডিএমসিএইচ এক ডজন প্রোলিন কেনে ১ হাজার ৫শ’ ৪০ টাকায়। অথচ একই চিকিৎসা উপকরণ পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ৪ দশমিক ২৮ গুণ বেশি দামে, ৬ হাজার ৬শ’ টাকায়। কেমিক্যাল রি-এজেন্টের মধ্যে ব্লাড গ্রুপিং রি-এজেন্ট এন্টি ডি কেনায় ডিএমসিএইচ’র অনুমোদিত দাম ১শ’ ৯৫ টাকা। একই উপকরণ কিনতে পঙ্গু হাসপাতালের অনুমোদিত দাম ১ হাজার ১শ’ টাকা। ডিএমসিএইচ যে চিকিৎসা উপকরণ কেনে মাত্র ২৮ টাকায় সেই একই উপকরণ পঙ্গু হাসপাতাল কিনছে ২শ’ ৯০ টাকায়। অনুসন্ধানে এমন অনেক তথ্যই মেলে।

পাইকারি বাজার, পঙ্গু হাসপাতাল ও ডিএমসিএইচ’র কেনাকাটা পর্যালোচনা

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, বাবুবাজার ও তোপখানা রোডের ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ বিক্রির পাইকারি দোকান ঘুরে জানা যায়, প্রতি থান সার্জিকাল ব্যান্ডেজের পাইকারি দাম ৭৫ টাকা। এই উপকরণ কিনতে ডিএমসিএইচ’র খরচ হয় ৮৮ টাকা। পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ৩শ’ ১৫ টাকায়। প্রতি থান (৪২৫-৪৫০ গ্রাম) সার্জিকাল গজের পাইকারি দাম ৮০ টাকা। ডিএমসিএইচ কেনে ১শ’ ১৯ টাকায় আর পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ৩শ’ ১৫ টাকায়। ব্ল্যাড গ্রুপিং রি-এজেন্ট অ্যান্টি-বি, অ্যাটলাস ইউকে’র পাইকারি দাম ১শ’ ৩৫ টাকা। ডিএমসিএইচ কেনে ১শ’ ৯৫ টাকায়। আর পঙ্গু হাসপাতালের অনুমোদিত দাম ৮শ’ ১০ টাকা। এইচআইভি ডিভাইস, এক্সেল’র পাইকারি দাম ২৪ টাকা। ডিএমসিএইচ কেনে ২৮ টাকায়। পঙ্গু হাসপাতালের অনুমোদিত দাম ২শ’ ৯০ টাকা। অ্যান্টি এইচসিভি ডিভাইস, এক্সেল’র পাইকারি দাম ২৪ টাকা। ডিএমসিএইচ কেনে ২৮ টাকায়। পঙ্গু হাসপাতাল অ্যান্টি এইচসিভি ডিভাইস কিনতে খরচ করে ৯০ টাকা। টিপিএইচএ ডিভাইস এক্সেল’র পাইকারি দাম ১১ টাকা। ডিএমসিএইচ কেনে ২৮ টাকায়। পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ১শ’ ১০ টাকায়। ব্ল্যাড গ্রুপিং রিএজেন্ট অ্যান্টি-এ, অ্যাটলাস ইউকে’র পাইকারি দাম ১শ’ ৩৫ টাকা। ডিএমসিএইচ’র কিনতে খরচ হয় ১শ’ ৯৫ টাকা। পঙ্গু হাসপাতাল কেনে ৮শ’ ১০ টাকায়।

সিন্ডিকেটে যারা

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনার বাজেট ছিল ১৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই বাজেট ছিল ২০ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটার বাজেট ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছর বছর বাজেট বাড়লে দুর্নীতি আরও বেড়ে যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বছরে গড়ে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ পাইকারি বাজার থেকে কিনে পঙ্গু হাসপাতালে সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আর মুনাফা লাভ করে ১০ কোটি থেকে ১৭ কোটি টাকা। গরিব ও সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে যারা এই বিপুল পরিমাণ মুনাফা নেয় তারা কারা?

অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারও কারও সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পঙ্গু হাসপাতালের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি ক্রয়নীতিতে (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-পিপিআর) উল্লেখ আছে সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাবে। বাজার দর যাচাই করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু পঙ্গু হাসপাতালের দরপত্রের নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, দরপত্রের কাগজে স্ট্যান্ডার্ড রেট নামে একটি ঘর করে শুরুতেই কয়েকগুণ বেশি দাম নির্দিষ্ট করা থাকে। আর দরপত্র হয় এই রেটের ওপরেই। পঙ্গু হাসপাতালের ওয়েবসাইটে দরপত্র প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা সবসময় প্রকাশ হয় না। এই প্রক্রিয়ায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কেনাকাটার দরপত্র ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়নি। প্রতিষ্ঠিত দৈনিকগুলোতে দরপত্রের বিজ্ঞাপন প্রকাশের কথা থাকলেও প্রকাশ হয় প্রচারবিহীন দৈনিকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠিকাদার কামরান শহীদ প্রিন্স মোহাব্বতের প্রতিষ্ঠান মেসার্স বীথি এন্টারপ্রাইজ, মিরাজুল ইসলাম স্বপনের মেসার্স ট্রমা সার্জিক্যাল ও এম এম ট্রেডার্স, নাছির উদ্দিন বাবুলের মেসার্স নেপচুন এন্টারপ্রাইজ ও রাহাতুল ইসলাম জুয়েলের মেসার্স আনিকা এজেন্সি চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করে। পঙ্গু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. একেএম জহির উদ্দিন ও সহকারী হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলামের সহযোগিতা পান তারা।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসূত্র করে কোটি কোটি লুটপাটের বিষয়ে জানতে পঙ্গু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. একেএম জহির উদ্দিন ও সহকারী হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলামের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের দেখা মেলেনি। কথা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র-নিটোর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল গণি মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ কেনাকাটায় পঙ্গু হাসপাতালের সঙ্গে অন্য হাসপাতালগুলোর দামে খুব বেশি ফারাক হওয়ার কথা না। তারপরও আমরা সতর্ক আছি, সংশ্লিষ্টদেরও সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি আছে। তারাই বিষয়টি দেখভাল করে।’

ঠিকাদার বললেন, স্যাররা যেভাবে বলেন সেভাবেই সবকিছু করি

ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ট্রমা সার্জিক্যাল ও এম এম ট্রেডার্সের মালিক মিরাজুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘দামের ফারাক আমাদের বিষয় না। স্যারেরা যেভাবে দাম ধরে দেন সেভাবেই মাল সরবরাহ করি। স্যাররা যা চান তাই করি।’ অন্য দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নেপচুন এন্টারপ্রাইজের মালিক নাছির উদ্দিন বাবুল ও মেসার্স আনিকা এজেন্সির মালিক রাহাতুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দরপত্রে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি

‘সিন্ডিকেট’ আপসরফার দরপত্রে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টিও ব্যবহার করে। এমন একটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি হচ্ছে বিজি নং-১০৭৩১৬০০১, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, শ্যামলী শাখা, ঢাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দরপত্রে নেপচুন এন্টারপ্রাইজ জামানত হিসাবে এই ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি সংযুক্ত করেছিল। ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির পাশাপাশি সিন্ডিকেটের বাইরে দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ভুল ধরে বাতিল করা হয়। দরপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্র গায়েব করার নজির প্রমাণিত হলেও পঙ্গু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. একেএম জহির উদ্দিন ও সহকারী হিসাবরক্ষক নজরুল ইসলামের তৎপরতায় তা আমলে নেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এক কার্যালয়ে বসেই পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড

নথিপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানা ভিন্ন হলেও মোহাম্মদপুরের ২২/১৩-এ, ব্লক-বি, খিলজী রোডে মেসার্স ট্রমা সার্জিক্যালের কার্যালয় থেকেই সিন্ডিকেটটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা হয়। নথিপত্র অনুযায়ী এম এম ট্রেডার্সের ঠিকানা: শ্যামলীর রোড-০২, বাসা-১০; মেসার্স বীথি এন্টারপ্রাইজের ঠিকানা : মোহাম্মদপুরের বি-২৮/এফ-১ বাবর রোড; আনিকা এজেন্সির ঠিকানা: মোহাম্মদপুরের বি-২৭/এফ-২৩, জহুরী মহল্লা, বাবর রোড; মেসার্স নেপচুন এন্টারপ্রাইজের ঠিকানা: ১৬/১৫, বাবর রোড। পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির কার্যালয়ই বাবর রোডে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঠিকানায় গিয়ে কোনও প্রতিষ্ঠানেরই কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি।

মূল ভূমিকায় মোহাব্বত

সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তারে মূল ভূমিকা পালন করেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক কামরান শহীদ প্রিন্স মোহাব্বত। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। চলতি বছরের মার্চে শ্যামলীর ২ নম্বর রোডে সংখ্যালঘু পরিবারের ৯ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠলে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

মোহাব্বতের আরও পরিচয়

২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ উঠলে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। প্রায় ৪ বছর অনুসন্ধান করে তারা। অনুসন্ধান শেষে বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালে ১৫৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৫৬টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। মামলার আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। অন্যতম ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান বর্ষণ অ্যাগ্রোর মালিক হচ্ছেন কামরান শহীদ প্রিন্স মোহাব্বত। ভুয়া কাগজপত্রে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় মোহাব্বত ও তার স্ত্রী শামিয়াজ আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। ২০১৬ সালের আগস্টে বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামি মোহাব্বতসহ বিভিন্ন মামলার ১৬৯ জন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক। মোহাব্বত ও অন্য আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা, পুলিশের বিশেষ শাখা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের ঠিকাদারি আর পঙ্গু হাসপাতালে দরপত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরান শহীদ প্রিন্স মোহাব্বত বলেন, ‘আমি নিজে খুব বেশি ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করি না। আর আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অন্য হাসপাতালের চেয়ে কম দামে ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ করে। যা কিছু করি সরকারের আইন-কানুন মেনেই করি। কোনও কিছু অবৈধ না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ