প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রণক্ষেত্র নয়া পল্টন : কিসের ইঙ্গিত?

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া : নয়া পল্টন রণক্ষেত্র। কেন? বিএনপির নমিনেশান ফরম কেনার জন্য অসংখ্য মানুষের ছবিই বলে দিচ্ছে দলটি আসলে শেষ হয়ে যায়নি। সরকারি দলের নেতারা যাই বলুক আর যাই মনে করুক, এই ছবিগুলো বলে দিচ্ছে বিএনপি এখনো জীবন্ত। কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেলে এভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী মানুষেরা ভীড় জমাতেন না। বাংলাদেশ ও তার মানুষের চরিত্র বরাবরই বিচিত্র। নানা কারণে তারা সবসময় বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে। কথায় বলে মানুষের চাওয়ার শেষ নেই। একসময় অন্ন-বস্ত্র বা বসবাস নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ তা নিয়ে নিশ্চিত হলেও আশা কমেনি তাদের। শান্তি আর নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো যেহেতু এখনো প্রশ্নময় সেহেতু বিরোধী দলের প্রতি দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে বিএনপি আসলে মুসলিম লীগের বিকল্প।

যারা জামায়াতের সাথে থাকে আবার মুক্তিযুদ্ধের দল বলেও নিজেদের প্রচার করতে ভালোবাসে। তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সুযোগে একজন মুক্তিযোদ্ধা। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের ইতিহাস ও অর্জনকে তিনি যতোভাবে হেনস্থা করুন না কেন, মধ্যবিত্তের মনে তার একটা জায়গা আছে। বিশেষত সুবিধাবাদী মধ্যবিত্তের মনে। মনে রাখা দরকার, বিএনপি পাকিপ্রেম আর বাংলাদেশ মিলে যে ককটেল তৈরি করেছিলো তা ভালোই গিলেছিলো এ দেশের মানুষ। যখন চেতনা প্রায় মৃত আর আদর্শ প্রায় শেষ তখন শেখ হাসিনা হঠাৎ সব বদলে দিলেন। ইতিহাসের কাঁটা সাফ থেকে দেশের উন্নয়নে তার হাজারো অবদান থাকার পরও এ দেশের এক শ্রেণির মানুষ বিএনপি বলতে অজ্ঞান। এদের সমর্থন আর দুই টার্মে আওয়ামী লীগে স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠা নেতা কর্মীদের মস্তানি সন্ত্রাস আর বেপরোয়া মনোভাবের কারণে নমিনেশান প্রার্থীরা ধরে নিয়েছেন ধানের শীষে নির্বাচন করতে পারলেই তারা জিতে আসবেন।

তাই বুধবার নয়া পল্টনে ঢল দেখলাম। এদিকে আত্মতুষ্ট আওয়ামী লীগে নেতার চাইতে অভিনেতাদের ভীড় বাড়ছে । মনোনয়নপত্রের জন্য মরিয়া বেশিরভাগ মুখ বা চেহারায় আওয়ামী ভাব নেই। তারকাখচিত নির্বাচন দলের জন্য কতোটা সুখকর হবে বলা মুশকিল। তবে নয়া পল্টনের সমানে যে ভীড় পরবর্তী সময়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এটা পরিষ্কার বিএনপিই চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা মানে দেশের এক বিরাট অংশের মোকাবেলায় নামা। সরকারি দলের সে রাজনৈতিক প্রস্তুতি কতোটা সেটাই দেখার বিষয়। তবে ভীড় ও সমাবেশ এবং আগতদের আচরণ ও চেহারা বলে দিচ্ছে বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র্য মেদিনী। নির্বাচন তাহলে জমাট হতে চলেছে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ