প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুতুল নাচের ইতি ঘটালেন শেখ হাসিনা

ওয়ালিউর রহমান : আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক দর্শন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নতি ও আশা-আকাক্সক্ষার বাহক বা প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিএনপি-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিলো তাতে করে আমাদের গণতন্ত্রের পথে আমরা একটা লগ্নে উপস্থিত হয়েছি।

১৯৯৬ সালের আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর স্যার নেনিয়ান স্টিফেন্স বাংলাদেশে এসেছিলেন, আমাদের রাজনৈতিক সংকট মধ্যস্থতা করতে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেই মধ্যস্থতা কর্মকা-ে আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। নেনিয়ান স্টিফেন পনেরদিন ছিলেন। কিন্তু তদানীন্তন সরকারের একগুঁয়েমির কারণে ওই সময়ের রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে পৌঁছতে পারিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আগে এসেছিলেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। ফলাফল ছিলো শূন্য। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধীদের অসহযোগিতার ফলে জিমি কার্টার মিশন ফেল করলো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এসেছিলেন জাতিসংঘ থেকে তারানকো। সমাধান হয়েছিলো? হয়নি।

সবগুলো আয়োজনেই আমি ছিলাম। আমি খুব লজ্জা পেয়েছি। আমার কূটনৈতিক জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় জাতিসংঘে কাটিয়েছি। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অরগানাইজেশন ন্যাম, ওআইসিসহ অনেক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নিউয়র্ক, জেনেভা, ভিয়েনা, হাভানা, রাবাদ, আলজেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি বলে মনে হয় না।

জাতিসংঘকে আমি সম্মান করি সামগ্রিক সংস্থা হিসেবে। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তিবিশেষের পদধূলি দিতে হয় তখন আমার লজ্জায় মাথা নুয়ে যায়। পনের আগস্ট জাতির জনকের নির্মম হত্যার পর আমি দেখেছি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক প্রেসিডিন্টে সিয়ান ম্যাগব্রাইড এবং হাউজ অব কমন্সের কিছু ব্যক্তি একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ থেকে সরব কোনো প্রতিবাদ হয়নি। আমি যা লিখছি, ইতিহাস থেকে। তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব ভয় পেয়েছিলেন হোয়াইট হাউজ অধিবাসী প্রেসিডেন্ট নিক্সন এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান হেনরি কিসিঞ্জার নিন্দা পছন্দ করতেন না।

এই সমস্ত পুতুল নাচকে চিরদিনের জন্য বিদায় করতে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ দেখিয়ে দিলেন সংলাপের মাধ্যমে। রাজনীতিতে যে ধারা তিনি সৃষ্টি করলেন, এতে আগামী দিনে দেশের গণতন্ত্রের শেকড়কে মজবুত করলেন।

লেখক : গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ