প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেকায়দায় আ.লীগ স্বস্তিতে বিএনপি

আমাদের সময় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শেরপুর-৩ আসনের রাজনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে। এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি থাকায় বেকায়দায় রয়েছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপিতে একক মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দ্বন্দ্ব না থাকায় দলটি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

শেরপুর-৩ আসনটি জেলার দুটি উপজেলা শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৪ জন। এর মধ্যে শ্রীবরদীতে ২ লাখ ১৮০ জন এবং ঝিনাইগাতীতে ১ লাখ ২৫ হাজার ২১৪ জন। শ্রীবরদী উপজেলাতেই ভোটার সংখ্যা বেশি। ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে থাকা ঝিনাইগাতী থেকে স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে কেউ মনোনয়ন পাননি। তাই শ্রীবরদী উপজেলা থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এ আসনে নৌকার মাঝি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন ১৪ জন। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএমএ ওয়ারেজ নাইম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম আমিরুজ্জামান লেবু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবু সালেহ মো. নুরুল ইসলাম হিরু, জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছরিন বেগম ফাতেমা, শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাহারুল ইসলাম লিটন, শ্রীবরদীর খড়িয়া কাজির চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম। বাকিরা হলেনÑ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক কৃষিবিদ ড. ফররুখ আহমেদ ফারুক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান রাজা, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এমএ বারীর ছেলে মহসিনুল বারী রুমি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন কাফী জুবেরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা খন্দকার ফারুক আহামদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সেলের সদস্য কৃষিবিদ আল ফারুক ডিওন, প্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল হালিমের ছেলে নাজমুল মোবারক বিপ্লব। শরিক দলের তেমন কোনো জোরালো প্রার্থী না থাকলেও, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কারণে দলটি বেশ চাপের মুখেই রয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সাধারণ ভোটাররা বিএনপির পক্ষে রয়েছে। বর্তমানে দলে কোনো কোন্দল বা দ্বন্দ্ব নেই। নির্বাচনী পরিবেশ না থাকায় নেতাকর্মীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ক্ষমতাসীন দলের চাপের মুখে মাঠে নামতে পারছেন না। তবে নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপি এ জেলার তিনটি আসনই লাভ করবে।

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, বড় দলে একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সব নেতাকর্মী শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই কাজ করবে। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জনসাধারণ নৌকা প্রতীকে ভোট দেবে। এবারও জেলার তিনটি আসনেই নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ