প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ হচ্ছে না

প্রথম আলো : পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পরামর্শ দিয়েছে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখা যেতে পারে। আজ বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। এর আগে প্রায় চার মাস আগে নাম বদলের প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গৃহীত হয়।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নাম বদলের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়, যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নাম বাংলাদেশ, তাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ‘বাংলা’ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে কি না বা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না।

নিয়ম অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাম বদলের ছাড়পত্র দিলে মন্ত্রিসভা নাম বদলের প্রস্তাব নিয়ে নোট তৈরি করে। এরপর নাম বদলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করা হয় ভারতীয় সংসদে। সংসদ অনুমোদন দিলে তা সর্বশেষ অনুমোদনের জন্য চলে যাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলেই নাম বদলের প্রস্তাব আইনে পরিণত হয়। কিন্তু এ নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নাম বদলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে।

চলতি বছরের ২৬ জুলাই সর্বসম্মতভাবে পশ্চিমবঙ্গের নাম তিন ভাষাতেই (বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি) ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব গৃহীত হয় রাজ্য বিধানসভায়। এরপর সেই প্রস্তাবসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাগজপত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকার পাঠিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপত্তি তোলে নামের সঙ্গে বাংলাদেশ কথার মিল থাকায়। তাই এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মত চাওয়া হয়। বিশেষ করে প্রস্তাবিত এই ‘বাংলা’ নামের সঙ্গে বাংলাদেশ নামের মিল থাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে—এমনটা ভেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে মতামত আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেয়। পাশাপাশি জানিয়ে দেয় তিন ভাষাতে পশ্চিমবঙ্গ রাখা হলে আপত্তি থাকবে না কেন্দ্রীয় সরকারের।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপিও চেয়েছে এই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখতে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ নামকরণের পক্ষে রয়েছেন। তাঁরা খুশি হয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে।

এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট রাজ্য বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে বাংলা করার প্রস্তাব পাস হলেও সেখানে বলা হয়েছিল ইংরেজিতে এই নাম হবে বেঙ্গল আর হিন্দিতে হবে বাঙ্গাল। নাম পরিবর্তনের এই প্রস্তাব বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ১৮৯ ভোট আর বিপক্ষে পড়ে ৩১ ভোট। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এক চিঠিতে জানায়, যে নামই হোক না কেন তা একটি নাম হতে হবে। পরে রাজ্য সরকার তিন ভাষাতেই ‘বাংলা’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে সেদিন এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পেশ করেন সংসদীয়–বিষয়ক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

প্রস্তাব পাসের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘আজ আমাদের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন। বাংলা নামের প্রতি আমাদের আবেগ জড়িত। তাই এই রাজ্যের নাম বাংলা হওয়ায় আমরা গর্বিত। আশা করি রাজ্যবাসীও খুশি। তাই রাজ্যবাসীকে জানাই অভিনন্দন। বাংলা নামে আমরা আজও স্বচ্ছন্দ বোধ করি। তাই আজ এই রাজ্যবাসীর জন্য এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।’ মমতা আরও বলেছিলেন, ‘যুগের প্রয়োজনে কখনো সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়। আমরা সেই পথে এগিয়ে আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা করেছি। কবিগুরুর নানা লেখায় ফুটে উঠেছে এই বাংলা নামের কথা।’

২০১৬ সালের ২ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় দুটি নামের প্রস্তাব গৃহীত হয়। বাংলা এবং বঙ্গ। তবে অধিকাংশের মত ছিল ‘বাংলা’ নামের পক্ষে। সেই নামকেই অনুমোদন করেন মমতা। তারপর তা পেশ করেন বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে। মমতা আরও বলেন, ‘এখন থেকেই আমরা এই রাজ্যের নাম বাংলা লিখব।’

এর আগে ২৬ জুলাই অবশ্য বিধানসভায় নাম পরিবর্তনের সর্বশেষ প্রস্তাব পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রস্তাব পেশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংলায় হবে বাংলা, ইংরেজিতে বেঙ্গল এবং হিন্দিতে বাঙ্গাল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে একটি নাম। তাই আমরা বাংলাই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হিন্দি ও ইংরেজিতেও লিখতে হবে বাংলা।’
যদিও ইতিমধ্যে ‘বাংলা’ নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল রাজনৈতিক মহলে। কেউ কেউ বলেছেন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ। রাজ্যের নাম বাংলা হলে সমস্যা হতে পারে। তাই এ প্রসঙ্গে মমতা আগেই জানিয়ে দেন, ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল ঠিকই আছে। পাশে বাংলাদেশ তো একটা দেশ। আর রাজ্যের নাম বাংলা হলে অসুবিধা কোথায়? পাকিস্তানেও পাঞ্জাব আছে, আমাদের দেশেও পাঞ্জাব আছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়েছে। সংযুক্ত প্রদেশের নাম পরিবর্তন হয়ে হয়েছে উত্তর প্রদেশ, হায়দরাবাদের পরিবর্তে হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্য ভারতের নাম হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে হয়েছে উত্তরাখন্ড, উড়িষ্যার পরিবর্তে হয়েছে ওডিশা, ত্রিবাঙ্কুর-কোচিনের পরিবর্তে কেরালা, মাদ্রাজের পরিবর্তে তামিলনাড়ু এবং মহীশূরের পরিবর্তে হয়েছে কর্ণাটক রাজ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ