প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাইগারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় ভক্তমনেও শঙ্কা

আক্তারুজ্জামান : প্রথম টেস্ট হেরে এমনিতেই দলের ওপর নাখোশ বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট ভক্তরা। মিরপুরের শেষ টেস্টে অবশ্য জয়ের প্রহর দেখতে শুরু করেছে টাইগাররা। তবুও যেন খুশি নয় সেই ভক্তরায়। আসলে খুশি হবে কিভাবে? দলের এমন ফিল্ডিং দেখে কেউই যে খুশি হতে পারবে না। আর এমন ফিল্ডিংয়ের পরও দল জিতলে সেটাকে ভাগ্যই বলতে হবে। তাছাড়া মিডল অর্ডার নামক গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পুরোনো দুর্বলতার চিকিৎসা আজও সেই ভক্তরা পায়নি।

‘এমনভাবে যদি ক্যাচ ছাড়তে থাকে তবে ম্যাচটাও হাত ফসকে যেতে পারে’ এমন ভাবনায় চলছে ভক্তমনে। কারণ ভক্তমনের বিশ্বাস- ক্যাচ মিস তো, ম্যাস মিস। তাই শেষ দিনে মাঠে নামার আগে ভক্ত মনের চাওয়া অন্তত ফিল্ডিং আর ক্যাচের ঝুড়িটা যেন ভালো করে রাখে টাইগাররা।

ব্যাটিংয়ে নামার পর বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা, এই ধাক্কা মিডল অর্ডার কাটিয়ে উঠতে কখনো পারছে, আবার কখনো পারছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসেই শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় সামলেছে মিডল অর্ডার। ব্যাটসম্যানরা তবুও তাদের কাজটা করেছেন। কিন্তু চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঐ শুরুতে বলা ফিল্ডারদের পিচ্ছিল হাত। যেভাবে ক্যাচ হাতছাড়া হচ্ছে, এটির খেসারত না আবার দিতে হয় বাংলাদেশকে।

আর অভিষিক্ত খালেদের দুঃখের কথা আর নাই বা বললাম। ছেলেটা এতা ভালো করেও নামের পাশে একটি উইকেট যোগ করাতে পারেননি। শুধুমাত্র ফিল্ডাদের জন্য। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তার বল ফেলেছেন টাইগার ফিল্ডাররা।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ দলের ও বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের হাহাকার বাড়ানো কয়েকটি মুহূর্ত।

শুরু হোক দ্বিতীয় ইনিংসের কথা দিয়েই। জিম্বাবুয়ে ৪৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দারুণ সুযোগ। তাইজুলের বলটা চেরির ব্যাটের কানায় লেগে যায় প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো মিরাজের কাছে। মিরাজ পারেননি বলটা লুফে নিতে। তখন ১ রানে থাকা সেই চারি পরে ফিরে যান ৪৩ রানে।

আবারও মিরাজ। নবম ওভারে সেই খালেদ আহমেদের ব্যাক অব লেন্থের বলটা মাসাকাদজার ব্যাটের কানায় ছুঁয়ে বল চলে যায় গালিতে দাঁড়ানো মিরাজের কাছে। খালেদ উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় নিয়ে ফেলেছেন। তখনই ক্যচটা ফেলে হতাশ করেন মিরাজ।

এবার বলা যাক প্রথম ইনিংসের কথা। তখন দ্বিতীয় ওভার মাত্র। আবারও সেই অভিষিক্ত খালেদ। মাপা লেন্থের বলটা খোঁচা দিয়েছিলেন মাসাকাদজা। বলটার ঠিকানা ছিল প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো মিঠুনের হাত। কিন্তু হাত বাড়ালেন দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো আরিফুল। বলটা কারও হাতে যায়নি, পড়লো মাটিতে।

উইকেট পাওয়ার আন্দ করতে গিয়েও এরকম হাতশ কয়েকবার হতে হয়েছে অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের। ছবি : প্রথম আলো

আবারও খালেদ, এবার ক্যাচটা হাতছাড়া করেন তাইজুল। ২০ রানে জীবন পাওয়া চারি পরে ফিফটি করেই ফিরলেন। আবার বাংলাদেশকে ভালোই ভুগিয়েছেন পিটার মুর। ৭৫ রানে মুরকে ফেরানোর একটা সুযোগ তৈরি করেছিলেন ফিজ। বলটা তুলে দিয়েছিলেন বদলি ফিল্ডার নাজমুলের হাতে। কিন্তু নাজমুলের পাতা সেই ঝুলিতে পড়েনি মোস্তাফিজের বলটা।

নড়বড়ে নব্বইয়ে ফিরে যেতে পারতেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান টেইলর। কিন্তু ৯৪ রানে তাইজুলের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটকিপার মুশফিকুরের কাছে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। মুশফিক সেটি গ্লাভসবন্দী করতে ব্যর্থ হলে শতক তুলে নেন টেইলর।

আগামীকাল শেষ দিনে যদি এই তালিকা আরও দীর্ঘ হয় তবে জয় পেতে বেশ বেগ পেতেই হবে স্বাগতিকদের। কেননা, এখনো ক্রিজে আছেন ব্রেন্ডন টেইলর, পিটার মুর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজার মতো ব্যাটসম্যানরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ